দুটি কবিতা- মাঈন উদ্দিন জাহেদ

থোকা থোকা জুঁই
————–
১.
আমাদের সময়গুলো কত দূরন্ত অপার
চলেগেছে নিশ্বাসে ;বিশ্বাসের ওপারে
জীবন বদলে গেছে- থোকা থোকা জুঁই;
রেখে গেছে বেদনা-নাম যার আমি আর তুই|
২.
গোলাপের মুগ্ধ গাঁথা- স্বর্ণচাপার খোজে
চলে গেছি কাজি বাড়ি- চা বাগান হয়ে
ফটিকছড়ির কালো ইতিহাসে-
ইতিহাসের ফাঁসির কাস্টে শেষ দৃশ্যে কী আমি?
কত ছবি কত কথা পুকুরের ঢেউ
স্বর্ণলতা খুঁজে খুঁজে পাড় করি সকাল-দুপুর;
আমিতো তোমাকে খুঁজি, তা দেখে নিখিল
আমার তোমার মাঝে কে জানতো এমন খিল!
দূরত্ব তৈরী করে গ্রাম্য কুটিল।
৩.
শেষ দৃশ্যে আমি-তুই দূরত্ব অপার
কারো সাথে কারো দেখা হয়নাতো আর ;
অর্থনীতি ক্লাস করে তুমিতো বৈষ্য -
চিরকাল আমি আছি শুদ্র ও তুচ্ছ;
অভিবাসি পাখি হয়ে তুমিতো আটলান্টিকের ওপারে-
এখনো আমি খুঁজি স্বর্ণলতা ঝোপঝাড়ে-
বাউলা বাতাস বয় চারদিকে সুনসান-
হূদহূদ তেড়ে আসে- গোয়েন্দা সোলেমান।

১২.১০.২০১৪

জীবনের ভাঁজ
………………..
অাজও আমি তোমার দেওয়া উত্তরীয় টা ভাঁজ করে রাখি;
যতনে অাগলে রাখি স্মৃতি- আমার না বলা আকৈশোরের কথা|
যেবার রেভলন থেকে দুটো এপ্লিকের কাজ করা পান্জাবী কিনি ;
তুমি বলেছিলে এর সাথে উত্তরীয় না হলে মানায়?
খয়ের রঙ্গের উত্তরীয় যে জীবনের গভীর বেদনা হয়ে যাবে -
আগে কী ভেবেছি আমি?
যে তুমি হরণ করো নিজস্ব হৃদয় – সে তুমি দূরদ্বীপ বাসিনী!
আমি তোমাকে পেতে সমাজরীতি বুঝেছি,
অর্থনীতি শিখেছি, রাজনীতি শুধু করিনী |
আমি তোমাকেই শুধু পেতে চেয়ে – দূরে সরে গিয়াছি।
আমি তোমাকেই চেয়েছি;
আমি তোমাকেই শুধু ভালোবাসিয়াছি বলে- হৃদয়ে যতন করে রাখিয়াছি।

কবি! হে ভ্রাতো!

১৭.০৭.২০১৪

হে ভ্রাতো ! তোমার শব্দপুঞ্জ কীভাবে গ্রন্থিত হয় শব্দে শব্দে
পদে পদে পংক্তিতে পংক্তিতে উপমা উৎপ্রেক্ষায়?
মুসার উম্মতের মতো তোমার অজস্র প্রশ্ন কীভাবে লতিয়ে ওঠে
কবিতার শব্দ শরীরে ভাবের নিমগ্ন দাহনে উত্থাপিত জিজ্ঞাসায়?
তুমি কি নবীদের অনুভবে মানুষের কষ্টের কবি দিতে চাও পয়গাম?
তোমার শব্দপুঞ্জে বেড়ে ওঠে অজুত মানুষের ব্যথর্তার সংগ্রাম, কাম ও ঘাম?
হে ভ্রাতৃ হৃদয় ! জেনে নাও ইতিহাস থেকে কীভাবে পড়েছে লানত,
তোমার পূর্ববতর্ী যেসব মানুষেরা গেয়ে গান শক্তি ও অস্ত্রের, করেছে মানত
মানুষের শুভ্রতার পরিবতের্ লিংগজীবী নারী ও পুরুষের -
তারাতো থেতলে গেছে ইতিহাস থেকে
পচাঁ ইতর হয়ে বেঁচে আছে পন্ডুলিপির খোয়ারে ;
মানুষের হৃদয়ে নয় পূতিগন্ধময় গঙ্গা কিংবা কণর্ফুলীর জোয়ারে ।

ফিলিস্তিন নিয়ে কবিতা মাঈন উদ্দিন জাহেদ

শোক-১
ভোগের রাজ্যে দ্বীন ও দুনিয়া দুই ই গেছে, কে আজ মুমিন কে সাধারণ?
ব্রাজিলও মরেছে ফুটবল মাঠে, ইজরাইলী বোমারু বিমান নেয় শত প্রান
শোক-২
এ কোন পূণির্মা? আমিতো বিবাগী আধাঁরে
বরিষো ধারাতো চাই আমার ভেতরে বাহিরে
বেকুল হয়ে আছি অকুল পাথারে 
এ কোন পূণির্মা ? আমাকে কাঁদালে
স্পশর্ চাই স্পশর্ চাই হয়েছি পরশের কাঙ্গাল
পৃথিবী ব্যাপি শোক- আমিতো তোমার রাখাল
১০জুলাই-২০১৪

শোক-৩
এ কোন সভ্যতা? বুলেটের লক্ষ্য হয়েছে এখন শিশু ও কিশোর,
ফিলিস্তিন ! মা আমার, আমিতো তোমার পুত্র বোধহীন নপুংষক
ব্রডসিট টেবু সফট কিংবা হাড- মিডিয়ার সবখানে নেইমার মেসি দ্রকবা 
বিবেকজীবীরা এখন উল্লম্ফনে- কেন হারলো ব্যাখ্যা – কার কীবা ;
হেরেছি পুত্র আমি – ভোগের কাছে হায় ফিলিস্তিন !
করির কাছে স্বপ্ন বেচেছি – কবে শেষ হয়েগেছেপ্রতুল মুখাজর্ীর দিন
১১জুলাই-২০১৪ রাত-১২.২২ 

শোক-৪
একোন মৃতু্যপুরি সভ্যতার অভিশাপ? 
শিশুদের মগজ খুলে খায় জিয়ুস শকুন;
আমাদের নির্লিপ্ততায় বাড়ে অভিশপ্ত দিন
রাগা আলুর দোলমা খেয়ে কেটে যায় বুদ্ধিজীবীতাদিন
১২ জুলাই-২০১৪

লানত
…….
১৩.০৭.২০১৪
প্রতিটি মানুষের আতর্নাদ, প্রতিটি শিশুর জীবন দান 
জিয়ুসদের জন্য অভিশাপ হোক- অভিশাপ হোক;
মজলুমের ভাষা আরশ কাপুক, লানত হোক- লানত হোক
গণতন্ত্রের যে সব কুপমুন্ডুক কুলুপ এটেছে প্রতিবাদে-
আজ তাদের উপরও লানত হোক- লানত হোক

২০১৪০৬২৭-০১৫১৪২-৬৭০২৭৩৯.jpg

প্রেমের কবিতা

প্রেমের কবিতা কখন লেখা হয়?
প্রেমে পড়লে আথবা প্রেমে বাধাঁ পড়লে।
এই যেমন হাত-পা-মুখ বাধাঁ-
মুখ খুললেই থাপ্পোর, হাত ছুড়লেই চোপ্পোর,
পা বাড়ালেই বেঁড়ি- কী আর করা -প্রেমেপড়ি।
প্রেমের কবিতা কখন লেখা হয়?
পুরুষ হলে অন্য কিছু করতাম,
-না পুরুষ বলে প্রেমে পড়ি।

২০১৪০৬১৪-০০৪২১২-২৫৩২৬৮৪.jpg

শবে বরাতের চাঁদ

চাঁদের সাথে হাঁটতে হাঁটতে যখন পৌঁছে গেছি তোমাদের উঠোনে
বুকের মাঝে হঠাৎ কচলে ওঠে শবে বরাতের চাঁদ;
এমনি ভুল আমি করে গেছি বার বার
ভুল বাগানে ঢুকে ভুল ফুল ছিড়েঁছি বার বার।
মনে আছেএমনি এক রাতে কম্পমান থরো থরো ঠোটে
আমরা বার বার আউরে ছিলেম শিরি- ফরহাদ-পদ্মাবতী উপখান;
ইতিহাসের যুগল নন্দিনী! আমরা তুলেছিলাম সুরের মূছর্না নিজস্ব নিয়মে;
সেই কবে! আমাদের ছাদ তার চাঁদকে নিয়ে সাক্ষী হয়ে আছে।
এমনি ভুল , মাশুল হয়ে শব্দের অক্ষরে
জেগে আছে নিয়তঃ পদ্যের ভাগারে।
অথচ শবে বরাতের চাঁদ হেসে কুটি কুটি হয়ে
বোকা আমির কান্ড দেখে …
অথচ রাত গভীর হলে আমরা বেরিয়ে পড়ি কবর গাহে…।
শবে বরাতের রাতে মাজারে মাজারে ঘোরার কিনা আনন্দ লুটেছি সেই কৈশোর
বন্ধুরা মিলে রিক্সায় রিক্সায় , এ মাজার থেকে ও মাজারে
শিরনী-ফিরনী-জিলাপির লোভে অদ্ভুত ছিল এসব রাত্রি যাপন;
এখন চাঁদের সাথে হাঁটতে হাঁটতে যখন
ভুল উঠনে আবার যায় -
ফিস্ ফিস্ করে তোমাকে ডাকার বদলে
আস্ তাগ ফিরুল্লাহ পড়ে উঠি-
এখন বয়স হয়েছে ঢের….
১৪.০৬.২০১৪

২০১৪০৬০৯-০৫৪৭২৬-২০৮৪৬৭৯১.jpg

যাপনের বোধ

ক্লান্তি লাগছে বেশ, সব কিছু বিষন্ন বিবাগী
রমণ ক্লান্ত নই কিংবা ভ্রমন।
আজ কাল সব কিছু গা সওয়া হয়েগেছে-
মান আপমান রাগ কিংবা ক্ষোভ
পাওয়া না পাওয়া,চাওয়া কিংবা হওয়া
সমান হয়েগেছে পাপ-তাপ-লোভ ;
যেভাবে যাচ্ছেদিন- যাচ্ছে চলে
গড্ডালিকা প্রবাহ কিংবা তৃপ্তহীন হেলে;
জীবনের আপাতঃ মানে বুঝে, যাচ্ছে সময়
ভাবিতে কষ্ট হয় যাপিতে ভয়
ক্লান্তি ক্লান্তি আনে বোধ হয় ক্ষয়
যাপনের মানে বুঝে শুধু অভ্যন্তরীণ নিবোর্ধে ।
৮জুন২০১৪,সকাল ৯.২০o

ঐ দুটো হাত

গোলাপ ! তোমার ঐদুটো হাত
স্মৃতির চিহ্ন হয়ে তেড়ে আসে গভীর গোপনে
আমাকে স্পশর্ করে কম্পমান হাতের
ছুয়েঁ যাওয়া হৃদয় আরতি- ব্যাথার যাপনে
তুমি কী আছো বেশ? স্মৃতিকে যতনে রেখে যাপিত যাপনে-
শাড়ী-ব্লাউজ-থ্রী পিচ-শেমিজ কিংবা গোছানো জীবনে?
হায়! আমি একান্ত যাপনে তোমার হাত দুটোর স্পশর্ নিয়ে
সেলফোনের বিজ্ঞাপন করি- নিজস্ব টিভি স্কীনে।
ফুলার রোড ধরে হাকিম চত্বর , গিয়েছে সময় বেশ নীলক্ষেত গিয়ে
ফুরায়নি সময় তখন – স্পশের্র হাত দুটো চলে গেছে মীরপুর রোডে;
সময় থামেনি তখন , সময় থেমে গেছে আজ- নিজস্ব নিয়মে।
স্মৃতিরা চলতে থাকে , কারো কারো স্মৃতি ছুঁয়ে যায় বোধ-
প্রেমই শুধু নিবোর্ধের মতো জেগে থাকে হৃদয়ে
আর কেউ স্মৃতিকে ভাজ করে মোলায়েম আদরে বেঁচে থাকে বেশ ।

২০১৪০৬০৭-০৬৫৯১৫-২৫১৫৫২৯২.jpg