মাঈন উদ্দিন জাহেদ এর একগুচ্ছ কবিতা

রাতের আলপনা
রাতকে যাপন করি উল্লাসে ও আনন্দে 
রাতকে যাপন করি অসীম সম্ভাবনায়; 

এক একটি রাত আসে সুনসান নীরবতায়

এক একটি রাত যেন সুনিপুন সৃজনে-

কেটে যায় রচনা করে নিজস্ব আয়নায়

তোমার প্রিয়মুখ মুখচ্ছবি রঙানো;

তোমার সব কিছু সাজানো গোছানো-

রাতগুলো তাই নিসঙ্গ তরপায় বেদনায় ।

ঝিঁ ঝিঁ পোকারা আমাকে চেনে 

চেনে মেয়ে মৌ মাছি আর কাটপোকা;

ওদের চিৎকারে আমার ধ্যান ভাঙ্গে 

নিত্যদিন টিকটিটির সঙ্গমে ভেবাচেকা।

বায়স ফিঙ্গে আমাকে চেনে , 

চেনে খুনসুটিতে ব্যস্ত যমজ গুই সাপও ; 

প্রতিদিন ভুল করে ঢুকে আমার বেড রুমে 

ওর কী সাধ জাগে আমাদের রঙ্গম দেখা ? 

রাতগুলো তাই নিরালা নিরালা – 

 জাগি আমি, তুমি ঘুমো- এতো কবিতা চাকা।

১১.০৮.২০১৫
  

হৃদয়পুর
রিদয়পুরের সাহিত্য আড্ডা 
ব্যানারে লেখা আছে – ২৮-২৯ আগস্ট-২০১৪

কী অদ্ভুত শুরুতে লেখা – প্রতিপক্ষ!

এমন ধবল করে কেউ বিনয়ী বিরোধী হয়?

নিজ থেকে জানিয়ে দেয়া- আমি তোমার প্রতিপক্ষ।

ফরহাদ ভাই কী যেন বুঝাচ্ছেন- একটি ছবিতে,

মুচকি হাসি রাফানের – অন্য ছবিতে।

গৌতম দা মনে হয় ব্রিক নিয়ে ব্যস্ত- আঙ্গুল তোলা আছে;

বিশ্বব্যাংক না চয়না ব্যাংক- যতসব অর্থ অনর্থ;

এই ফাঁকে কেউ কেউ চা তে চুমুক ।

আমি প্রবল ভাবে দেখে আছি ঝুটি , 

ফরহাদ ভাই কীভাবে রেখেছে বেঁধে এতোটা সময়?

কী সমাজ ভাঙ্গবো আমি ? শুধু বিয়ের কারনে-

বিসর্জন দিলাম পরম চুলগলো নরসুন্দরের কাছে।

ফেইস বুকে ছবিগুলো দেখে দেখে হঠাৎ

আটকে গেলো চোখ, দুটো চোখ কী গভীর গভীর,

যেন ঠিকরে পড়ছে পরম প্রতিভা-

এমন ঝলসানো আলো দেখিনি আর,

চোখ তার মেধার ঝলসানো আলো, চুল তার বনলতা সেন-

ফরহাদ ভাইয়ের প্রতিপক্ষ হয়ে কী চরম বিষন্নতায়

তাকিয়ে আছে আমার ক্যামেরা চোখে;

রাফান! এ ভরা জলসায় তুমি কী মান্যবর গালিব?

০৩.০৮.২০১৫
অধরা মাধুরী
কোথায় দেখেছি প্রথম তোকে-

সেই লেংটো বেলায় জামা ফ্রক তিড়িং বিড়িং,

বেলা যায় বেলা বাড়ে , মহাকাল করে যায় হীম; 

সে গভীর গহীন থেকে উঠে আসে ফড়িং ফড়িং।

মোটা ভ্রূ বেটপ চোখ গরুকে হার মানা –

তোকে খোঁচাতে আমার , কী গভীর হওয়া আনমনা!

নিত্য খুনশুটি – রিমোটের বাটন চেইঞ্জ-

এ নিয়ে হূলুস্তুল দাপাদাপি আমি আর তুই;

ফাগুনের বইমেলা, বৈশাখের মেলা যাইরে…

হাহ হা কী যাপন ! যদ্দুর তোকে পাইরে…

তবুও অধরা তবুও মাধুরী তবুও আমারই দীক্ষিত

তোকে পাওয়ার লোভে রচিত সব প্রেক্ষিত ।

অধরা মাধুরী তুই- অধরাই সই-

নিত্য তিড়িং তিড়িং, আসা জীবন ফড়িং।
০২.০৮.২০১৫

  
পর্যটন
তুমি তো জানালায় না চিহ্ন এঁটে দিয়েছো-
অনেক দিন তোমার কোনো তথ্য জানিনা।

ইথারে যখন ভেসে আসতো এক একটি ছবি কিংবা গান

কি উজাড় করে দেখেছি সে সব, শুনেছি সে মায়ামন্ত্র মন্ত্রণা।

অথচ তোমার সুনসান গোছানো সংসারে , যেনো না হয় ছন্দ পতন,

বিড়ালের পা ফেলে নীরবে দূরে থাকি , না দিয়ে তোমাকে যন্ত্রণা ।  

হাওয়ায় হাসি খেলি , হাওয়ায় ভাসায় মুগ্ধতার ভেলা নৌকা 

কীভাবে টের পেলে আমার এ ইথার পযর্টন টোকা ।

তোমার কী জেগেছে কোনো ভুতুরে জ্ঞান ?

না কী তুমিও জেগো আছো প্রানহীন প্রান?

অথচ কাল রাত সারা রাত জেগেছি আমি,

বাম পাশে শুয়ে ছিলে মায়াহীনা তুমি।

২৫.০৭.২০১৫

ভুলা না ভুলা
মাথায় বিলি কাটতে কাটতে বলে ফেললে-
বিয়েটা শেষ পযর্ন্ত করেই ফেললে ।

অথচ তোমার একটি মাত্র হ্যা শব্দ শোনার জন্য 

আমি কতবার হাই লেবেল রোড ধরে হেঁটে গেছি,

প্রিয় এ্যালপার লেপের চকলেট কিনতে গেলে 

দোকানি বুঝে যেতো আমার মুগ্ধতা-

তোমার না , চকলেটের সে দ্বিধা আজও আমার আছে;

অথচ বাড়তি চকলেটগুলো আজও আমি রেখে দি

তুমি আজও আমার চুলে বিলি কাটছো কাটছো 

চৌদ্দোটা বছর চলে গেলো আমরা স্মৃতিতে হারায় 

প্রিয় প্রসঙ্গ এলে ভুলে যায় দীপান্তরের দূরত্বের কথা –

এইতো মনে হয় তুমি বলছো –

বিয়েটা করেই ফেললে?

অথচ তুমিতো জানো আমি ভনিতা জানিনা,

প্রস্তাবটা দিয়ে নির্দ্বিধায় বলে ফেললাম- 

তুমি নাও বলতে পারো , আমি নির্বিগ্নে ভুলে যাবো।

জীবনে এই একবার মিথ্যা বলেছিলাম-

কই তোমাকে ভুলার কষ্ট আজো আমাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

৩০ মে ২০১৫

  

খেরোখাতাঃ স্কেচে বোধের বিন্যাস

কেশর দোলানো বাবরি চুলের আপাদমস্তক শিল্পী যিনি- তিনি আহমেদ নেওয়াজ। যিনি চিত্রশিল্পী, গ্রাফিক ডিজাইনার, ইন্টেরিয়ার ডিজাইনার, চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের প্রাক্তন প্রভাষক, ব্যন্ড গ্রুপ সোল্স এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠক । নন্দনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে এ শিল্পীর ছোঁয়া লাগেনি। কিন্তু প্রসঙ্গ হলো আপনি ছবি আঁকছেন না রান্না করছেন , তা মুখ্য নয়। মুখ্য হচ্ছে তা কিভাবে করছেন।অর্থাৎ কতটুকু তা শিল্পীত ভাবে হচ্ছে তা বিবেচ্য। শিল্পী আহমেদ নেওয়াজ রঙ রেখার সীমা ছাড়িয়ে বাণিজ্যিক বা অবাণিজ্যিক যাই করেছেন, তা শিল্পীত মননের ছোঁয়াই অনন্য হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞে তিনি শিল্প প্রভাবক হিসেবে এ অঞ্চলের জনমানুষকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন একটি মাজর্িত রুচির বৈভবে। তার সামষ্টিক চেতনা সৃষ্টি ঢাকা -চট্টগ্রাম কে সমানতালে কিংবা কখনো কখনো চট্টগ্রামকে এগিয়ে রেখেছে।

 তার জন্মদিনকে ঘিরে ৩১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০১৫ পর্যন্ত বন্ধুরা আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি ও শিল্প প্রাংগণ হাটখোলায় শিল্পীর স্কেচ ড্রয়িং কলম-কালিতে আহমদ নেওয়াজ এর খেরোখাতা প্রদর্শনী। শেষ দিনে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এ প্রদর্শনী দেখার এক অনুজ সহ। দেখার ফাঁকে ফাঁকে আমার উপরি দায়িত্ব ছিল বিমূর্ত বিষয় আশয় খোলাসা করার।তখন আমার মননে কাজ করছিলো অসামান্য শিল্পতত্ত্বিক প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসানের শিল্পবোধ ও শিল্প চৈতন্য বইয়ের আলোচনাগুলো।আলী আহসান স্যারের শিল্পের স্বভাব ও আনন্দ শিরোনামে আরো একটি শিল্প আলোচনার বই রয়েছে- যা বাংলাদেশে অনেক চিত্র সমালোচকের মনন গঠনে ভূমিকা রেখেছে।……..

কবিতা ব্যাবচ্ছেদের মূল উপাত্ত যেমন শব্দ,ভাস্কর্যের ইট সিমেন্ট, গানের কথা ও সুর,তেমনি চিত্রের মুল উপাদান রঙ ও রেখা। রঙ যদি নির্দিষ্ট হয়ে যায়- তখন রেখার বৈচিত্র্য,গঠন,গড়ন,বিকাশ ও উত্তানের মধ্য দিয়ে চিত্র আলোচনা গড়ে ওঠে।কলম কালিতে করা আহমেদ নেওয়াজের আটান্নটি স্কেচ প্রদর্শনী ও ক্যাটালগে গ্রন্থিত হয়েছে। তবে কলম ও কালিতে বৈচিত্র্য আছে। নানা রঙ ও মাত্রার কলম এবং কাগজের সমন্বয় হয়েছে। যা ক্যাটালগে বোঝা যায় না।

প্রসঙ্গ হিসেবে এসেছে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ,বিজয়,দায়মুক্তি, প্রেম,অন্তর্গত বিষয় আশয়,মানবতা,মানুষের মনো বৈপরিত্য,চেতনা,রবীন্দ্র-নজরুল,আধ্যাত্মিকতা,নারী, নর-নারীর সম্পর্ক,ধর্মবোধ,অসাম্প্রদায়িকতা,স্মৃকি, চিরন্তনা-জন্ম-মৃত্যু,সৃজনবেদনা,ভালোলাগা,নৈর্ব্যক্তিকতা,প্রকৃতি ও মানব প্রকৃতি অবলোকন এবং আত্মপ্রতিকৃতি।

ব্রোশিয়ারে চৌদ্দটি স্কেচ স্থান পেয়েছে। স্বভাবতই তা শিল্পীর নির্বাচন। কিন্তু যারা প্রদর্শনী দেখেছেন কিংব ক্যাটালগ দেখেছেন তারা বলবেন এর বাইরে আরো চমৎকার স্কেচ শিল্পীর রয়েছে। বিশেষ করে আলোকিত প্রার্থনা,সাত মার্চ, পক্ষে বিপক্ষে,বৈপরীত্য,বিশ্বাসের বাতিঘর,জয় বাংলা, স্মৃতি একাত্তর, মুখোমুখি বসিবার, অবগাহনের মধুরিমা,মাটি হবো মাটি সহ আরো অনেক স্কেচ ভালোলাগায় স্থান পাবে|

২.

স্মৃতি একাত্তর স্কেচটি একটি পুরনো বাড়ি, কাঠামো বলে দেয় উনিশ শতকের শুরুতে নির্মান। তার শীর্ষে জয়বাংলা এবং দেয়ালে লেখা বাংলাদেশ স্বাধীন কর।ছাদে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। স্বাধীনা সংগ্রাম চলাকালে এভাবে ব্যাক্তি বিশেষে ঘরের দেয়ালে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান কতটুকু নিরাপত্তার ছিলো তা ভাববার বিষয়! কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রাম , জনগণ চেতনা কে ছুঁয়ে ছিলো শিল্পী আহমেদ নেওয়াজের সংগ্রামী বোধ। তারুণ্যের স্বাক্ষর এ স্কেচটি।সাত মাচর্ঃ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম স্কেচটি একটি ইতিহাসকে ধরে রাখার চেষ্টা। বঙ্গবন্ধুর সাত মাচর্ের ভাষণের সেই উদ্ধৃপ্ত হাত তিনি এঁকেছেন। ঝঞ্জার মাঝে শ্বেত পান্জাবীর সেই তেজদীপ্ত হাত ইতিহাসের বজ্রনিনাদ হয়ে শিল্পীত হয়ে ওঠেছে এ স্কেচে। জয় বাংলা র বলিষ্ঠ ফিগার ও রেখা স্বাধীনতা সংগ্রাম কে উজ্জীবিত করার দীপ্ততায় ভাষ্যর। দায়মুক্তি স্কেচটি কলম কালির সাথে অন্য মাধ্যমে ফাঁসির রজ্জুটি উজ্জ্বল ভাবে পষ্ট করা হয়েছে।পক্ষে বিপক্ষে স্কেচটি চারটি বিচ্ছিন্ন রেখার উপস্থাপনা। ফিগারের প্রয়োজনে কখনো সরু কখনো পুরু হয়েছে।শুধু শেষ রেখার উপান্তে দুটো মোটা বিন্দু দিয়ে প্রৌঢ়ত্ব প্রকাশ করেছেন শিল্পী। এটি তার অনন্য স্কেচ। অসাধারণ কুশলতার নান্দনিক বোধ প্রকাশ পেয়েছে এ স্কেচে।তেমনি আর একটি স্কেচ বৈপরীত্য। মাত্র দুটো রেখা ও একটি বিন্দুর প্রকাশে সম্পূণর্িমা পেয়েছে এ স্কেচটি।দীর্ঘশ্বাস এর নারী ফিগারটি চমৎকার তবে বিমূর্তায়নে পুরো বিষয় পষ্ট হয়নি। বাঙালী মুসলমান পরিবারের সন্তান হিসাবে বিশ্বাসের বাতিঘর স্কেচটি ঐতিহ্য সচেতন বলে শিল্পীকে চিহ্নিত করে। আধুনিক বিমূর্ত চিত্রকলার ধারায় অনন্য একটি উদাহরণ হতে পারে শিল্পী আহমেদ নেওয়াজের আলোকিত প্রার্থনা স্কেচটি। বিষয় ,রেখা, উপস্থাপনা, আলোছায়ার বিন্যাস কিয়োবিক গ্রাফ গুলো সত্যি তার অন্তরগত শিল্প সত্ত্বাকে সার্থক ভাবে প্রকাশ করে।আলোর মহিমা, আসুরের দমন সুরের জয়,আলোকবর্তিকা স্কেচগুলো তার অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ।

তার অবগাহনের মধুরিমা,মুখোমুখি বসিবার,মীন,অশেষ চুম্বন,অভিসার,প্রজাপতি একদিন, আত্মসমর্পন, আখি পাখির লিখিত যন্ত্রণা, অপেক্ষার আগুনে পোড়া মন, নক্শী কাথার স্বপ্ন বুনন,আলোর ঝর্ণাধারা চমৎকার স্কেচ হিসেবে দর্শক নন্দন হবে।

 যে কোনো শিল্প মাধ্যমের প্রধান বিষয় প্রেম। সে রূপে হোক। শিল্পী আহমেদ নেওয়াজ সমাজ সচেতন হয়েও অন্তর্গত বিষয় আশয় হিসেবে প্রেমই মূখ্য।দীর্ঘশ্বাস,প্রেম প্রকৃতির খেরো,অবগাহনের মধুরিমা,সম্ভানার হাতছানি,প্রকৃতির ভালোবাসা, গন্তব্যহীন গন্তব্যে, পূর্ণতা,মুখোমুখি বসিবার,অন্তর্গত উপখ্যান, অশেষ চুম্বন, অবলোকন চিত্রপট, অভসার,প্রতীক্ষা, আলোকিত অন্ধকার, আত্মসমর্পন,অন্যরকম নারী স্কেচগুলো এ প্রাসঙ্গিক।স্কেচগুলোতে প্রেম নানা পর্বে উপস্থাপিত হয়েছে।তা কখনো প্রেমজ, কখনো কামজ, কখনো পূর্ণতায়।সঙ্গ অসঙ্গও এসেছে তবে নান্দনিক ভঙ্গিতে।কখনো মনে হয়ন খুব বেশী লবনাক্ত|

৩.

শিল্পী আহমেদ নেওয়াজের রেখার ছুটে চলা দূরন্ত , অসামান্য। এক টানে পূর্ণতা পেয়েছে অনেক ক্ষেত্রে চমকে দেয়ার মতো। তার স্কেচে সামান্য কটি রেখা কথা বলে ওঠে। বিশেষ করে পক্ষে বিপক্ষে, বৈপরীত্যে বসবাস,মীন, মুখোমুখি বসিবার,অবলোকন চিত্রপট,আখি পাখির অকথিত যন্ত্রনা,আগ্রাসন,আত্মপ্রতিকৃতি,নুরজাহানের হন্তারক বিলাস,অন্তলীন সম্পর্ক রেখা চিত্রে বক্তব্য পূর্ণতা পেয়েছে সুক্ষ কিন্তু বাক্ নৃত্যে।শুধু এর রেখাগুলো বলে দেয় শিল্পী আহমেদ নেওয়াজ কতো কতো পরিণত শিল্প সত্ত্বা ধারণ করে আছে।

৪.

খেরোখাতার সমস্ত স্কেচগুলোর মাঝে কোথায় যেনো পরিণত শিল্পের অসাধারণ সংযম নিয়ন্ত্রন আছে। বহূমাত্রিক এ শিল্পীর গভীর বোধের মৌন শিল্প হয়ে স্কেচগুলো কথা বলে নিজের ,পরিপার্শ্বের,সমাজের,রাষ্ট্রের, কিংবা কখনো কখনো মানবিক ঐক্যের,মানবিকতার,অসাম্প্রদায়িক চেতনার,আধাত্মিকতার। বৃহত্তর বাঙালী সংস্কৃতিতে বঙালি মুসলমানের আলাদ একটি চারিত্র্য আছে- যা উদার , অসাম্প্রদায়িক, তবে গণচেতনায় উদ্ধৃপ্ত। শিল্পী আহমেদ নেওয়াজ অবচেতন ভাবে তার প্রতীক হয়ে ওঠেছেন এ কলম কালির খেরোখাতায়। এ চেতনাই শিল্পীকে চিরন্তনের জিয়ন কাঠি ছোঁয়াবে।

৫.

কলম কালিতে আহমেদ নেওয়াজ এর খেরোখাতা। সম্পাদনাঃ অনুপ সাহা ও সুব্রত বড়ুয়া রণি। প্রকাশ কালঃ ১৬ শ্রাবণ ১৪২২ বঙ্গাব্দ, ৩১ জুলাই ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।

  উৎসর্গঃ লিপি-আমার বাবা আবু মোহাম্মাদ তবিবুল আলম 

                    আমার মা সাদাত আরা বেগম 

                    তোমাদের আলোতে আমারh মুক্তি

পর্যটন

তুমি তো জানালায় না চিহ্ন এঁটে দিয়েছো-
অনেক দিন তোমার কোনো তথ্য জানিনা।

ইথারে যখন ভেসে আসতো এক একটি ছবি কিংবা গান

কি উজাড় করে দেখেছি সে সব, শুনেছি সে মায়ামন্ত্র মন্ত্রণা।

অথচ তোমার সুনসান গোছানো সংসারে , যেনো না হয় ছন্দ পতন,

বিড়ালের পা ফেলে নীরবে দূরে থাকি , না দিয়ে তোমাকে যন্ত্রণা ।  

হাওয়ায় হাসি খেলি , হাওয়ায় ভাসায় মুগ্ধতার ভেলা নৌকা 

কীভাবে টের পেলে আমার এ ইথার পযর্টন টোকা ।

তোমার কী জেগেছে কোনো ভুতুরে জ্ঞান ?

না কী তুমিও জেগো আছো প্রানহীন প্রান?

অথচ কাল রাত সারা রাত জেগেছি আমি,

বাম পাশে শুয়ে ছিলে মায়াহীনা তুমি।

২৫.০৭.২০১৫

  

লেভ তলস্তয়ের কসাক

  
লেভ তলস্তয়ের কসাক……………………….

অনেক দিন পর খুজে পেলাম বিশ্বসাহিত্যের অসাধারণ কথাশিল্পী লেভ তলস্তয়ের কসাক উপন্যাসটি।নানা কারনে এ লেখকের মুগ্ধ পাঠক আমি। তারই কথা ধার করা যায়-সৎভাবে বাঁচতে গেলে চাই প্রবল আকাঙ্কা, ত্রুটিবিচ্যুতি,বুঝতে পারার ক্ষমতা,ভুলভ্রান্তি; চাই শুরু করা, শুরু করে ছেড়ে দিতে পারা, ছেড়ে দিয়ে আবার শুরু করা, এবং আবার ছেড়ে দেওয়া,চিরকাল সংগ্রাম করা, রুখতে পারা।

কসাক (১৮৫৩-১৮৬৩)উপন্যাসে ককেসাসের প্রকৃতি ,সাহসী ও মুক্তিপ্রিয় জনগোষ্ঠীর এক মুগ্ধ বর্ণনায় চমৎকৃত হওয়া যায়। এটি অভিজাত যুবক দ্ মিত্রি ওলেনিন এর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।তলস্তয় এখানে বড় ভাই নিকোলাইয়ের সাথে এসেছিলেন যুদ্ধে নিজের সাহস পরীক্ষার জন্য।প্রায় তিন বছর কাটান, সামরিক অপারেশনেও অংশ নেন। এ স্থান ত্যাগের সময় তলস্তয় নিজের দিনলিপিতে লিখেছিলেনঃ আমি ককেসাসকে ভালোবাসতে শুরু করেছি… প্রবল এ ভালোবাসা বাস্তবিকই সুন্দর এ প্রদেশটি, যেখানে দুটি অতি পরস্পর বিরোধী বস্তুর – যুদ্ধ ও স্বাধীনতার এমন অদ্ভুত ও কাব্যময় সমন্বয় ঘটেছে।

কসাক উপন্যাস দিয়েই তলস্তয়ের লেখালেখির প্রথম দশক পর্ব চলে যায়।

এ উপন্যাস সম্পর্কে শিল্পতাত্ত্বীক রঁমা রঁলার মন্তব্য চুমবুকময়ঃ তাঁর সৃষ্ট লিরিকধর্মী উপন্যাসগুলোর মাঝে কসাক শ্রেষ্ঠ রচনা – এটি যেন ককেশীয় কাব্য।

লেভ তলস্তয়(১৮২৮-১৯১০) সম্পর্কে রুশ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কীর মূল্যায়ন ছিলো মুগ্ধতার। তিনি লিখেছেন- সারা জগতের, সমস্ত পৃথিবীর দৃষ্টি নিবদ্ধ তাঁর দিকে। চ,ভারত, আমেরিকা- সব জায়গা থেকে জীবন্ত, আবেগস্পন্দিত সূত্র প্রসারিত হয়েছে তাঁর প্রতি; তাঁর প্রণসত্তা- সর্বজনীন।শাশ্বত।

তলস্তয়ের বিশ্বখ্যাত যুদ্ধ ও শান্তি, আন্নাকারেনা ,পুনরুজ্জীবন উপন্যাসের মতো কসাক উপন্যাসে আছে মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি ও মানব চরিত্রের নিপূণ বর্ণনা। উপন্যাসটি ১৮৫২ সালে রাশার সেন্ট পিটার্সবুগর্ের সভ্রেমেন্নিক পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পাঠালে সম্পাদক রুশ কবি নেক্রাসভ উপন্যাসের সাহিত্যগুনে মুগ্ধ হয়ে লেখকের সাথে পরিচিত না হয়েই ছাপা শুরু করেন। এর চমৎকার পাশ্বচরিত্র হলো অসমসাহসী তরুন কসাক লুকাশকা,অহংকার দৃপ্ত সুন্দরী মারিয়ানা, ফুরতিবাজ ও জ্ঞানী পুরুষ শিকারী এরশ্কা।

গোর্কী আরো একটি মন্তব্য আসাধারণঃ তলস্তয় হলেন সমগ্র একটি জগৎ। এই মানুষটি যথার্থই সম্পাদন করেছেন এক বিপুল কর্ম- অতিবাহিত সমগ্র একটি যুগের ফলাফল তিনি নির্ণয় করেছেন, পরিচয় দিয়েছেন তাঁর অপূর্ব সত্যনিষ্ঠা, শক্তি ও সৌন্দর্যবোধের।

কসাক উপন্যাসে মানুষের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে, সাধারণ জনজীবনের সৌন্দর্য ও পবিত্রতা সম্পর্কে এবং উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ওলেনিন – সমাজের ওপরতলার কপটতা ও মিথ্যাচারের প্রত্যাখ্যান বিষআষয় আন্তরিক ভাবে তুলে এনেছেন।সমর সেনের অনুবাদে এন বি এ থেকে প্রকাশিত এ কৃতি কাজটি সম্পাদনা করেছেন অরুণ সোম।

……………..

২৪.০৭.২০১৫

    মেয় র সাব এক্কানা চণ খাল পাড়রদি

সকালে ঘুমটা ভাঙলো বউয়ের চিৎকারে, সাপ…সাপ…। কোথায় উঠানে। ধূত্তোর- সারা রাত বিষ্টি পড়েছে সবার বাড়ি ঘরতো এখন ছেড়াবেড়া, সবায় বিপন্ন তাই আশ্রয় খুজছে। এভাবে চিৎকার করতে হয়? উঠে দেখলাম ধোরা সাপ,গেইট খুলে দিতে ও ওর রাস্তা মাপলো। বউকে বললাম আমাকে আর কোনো কিছুর জন্য ডাকবে না , আমি ঘুমাচ্ছি।কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গলো বিড়ালের ডাকে, কাল থেকে সে অস্থির ।বিষ্টিতে সে আশ্রয়হীন।বাচ্চারা কাল থেকে শুধু তাড়াচ্ছে,এদিক

গেলে ওবেটা ওদিকে যায়।ক দিনে কিছু খায়নি হয়তো ,কেমন করুণ সুরে

ডাকছে। মায়া হলো। ঘুম ভাঙ্গানোর রাগটা বউয়ের উপর যেভাবে ঝারতাম,বিড়ালের উপর পাড়লাম না। মায়া বলে কথা।

২.

আজ ছেলের বউ নিয়ে বড় আপা আসবে।গিন্নির তোড়জোড় সকাল থেকে।বাজারের ফর্দ শেষ হয় না। ঈদ ছুটি , এর পর রাত ভর বিষ্টি । পেছনের জানালা দিয়ে চাকতায় খালের পানি দেখলাম।সকাল থেকে ভাটা এখনও পানি রাস্তার সমান।বের হয়ে দেখি প্রায় দোকান বন্ধ। অগত্যা চকবাজার যাওয়া।ডিসি রোডে এক হাটু পানি। রিক্সাওয়ালা রাজি হলো ফিরে আসাসহ বাড়তি ভাড়াতে।হায়রে রাস্তা! রিক্সা এদিক থেকে ওদিক দেবে যায়। পুরো রাস্তায় দক্ষিণদিকে হেলে যাওয়া। রোডস এন্ড হাই ওয়ের কি কোনো অবজারভার নেই। রাস্তাগুলো এভাবে তৈরী হয় কিভাবে?টিকাদাররা কিভাবে যে এদেশের সর্বনাশ করছে! সমস্ত উন্নয়ের গণশত্রু এ শ্রেণি। সব জায়গায় কি গণ পাহারাদার ব্যবস্থা করা যায় না? যে এলাকায় উন্নয়ন হবে, কাজ শেষে ও এলাকার জনগনের থেকে পরামর্শ বক্স দিয়ে গণশুনানির পর, বিল ছাড় দেওয়া। উন্নয়নের নামে যা হচ্ছে – তা কতটুকু জণস্বার্থ রক্ষা হচ্ছে তা আজ বিবেচনার বিষয়।

৩.

বাজার না আগুন। 

পেপে- কেজি ৬০টাকা

করলা -কেজি ৮০টাকা

ঝিঙ্গা -কেজি ১০০টাকা

বরবটি -কেজি ৮০টাকা

লাউ-কেজি ৬০টাকা

কঁচা মরিচ ১২০টাকা

ধনেপাতা ২.৫০ গ্রাম ৬০ টাকা

গাজর কেজি ১২০ টাকা

শশা ৭০টাকা।

মুরগী ১৯০ টাকা। দোকানী মন্তব্য নিলে নিন , না নিলে না নেন। কথা বলার সময় নাই। ঈদের পরদিনের বাজারী বলে বাড়তি খেতাব পেলাম – দাদা বলে। বেটা আমার ধর্মটাও চেইন্জ করে নিলো ।পূঁজির সংসারে সবই কমন করে নিলো দোকানিরা। সবে মিলে ৫,৬টি দোকান খোলা।

৪.

ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমদি নিজাদ ছিলেন এয়ার ম্যানেজম্যান্টের ডক্টরেট। আমাদের গুলো রোড ম্যানেজম্যান্টের হলেও মন্দ হতো না।বিশ্ব থেকে আমরা এতো পিছিয়ে, ডিস এন্টেনা এভেলেভেল করে কি লাভ হলো? আমাদের সমাজপতিরা কিছুই কী শিখছে? চট্টগ্রামের উন্নয়ন উড়াল সড়কেই আটকে আছে। আর কিছু না হোক যা আছে তার তদারকি কী প্রয়োজন নেই? মেয়র সাহেব শুধু সংবর্ধনায় ব্যস্ত থাকলে চলবে ? কে কাকে বলবেন? সবায় মোসাহেবিতে আছে।কার যেন ছড়া পড়েছিলাম-

দেশ গেলো গোল্লায়

নেতারা কি ভাবছে?

আজ বলতে ইচ্ছে হয়-

বারিশার পানি পরের আসমান ফাডি 

মেয় র সাব এক্কানা চণ খাল পাড়রদি

য়োতোর মতো পানি যার রাস্তার উর

গুয়োর পানি মুতোর পানি অক্কত্তোর

রাস্তাগুন চিলি চিলি গাউয়ে রইয়ে 

কোর ভাঙ্গি মাজা ধরের বেগ্গুনিত্তি।

কাজ গইরলে গরন কিছু তারাতারি

মা বাপরে গাইল ন উনাউন এন গরি।

লেখা ঃ চারিত্র ভাবনা

  সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকাগুলো প্রকাশিত হতে হতে এক একটি চারিত্র ধারণ করে। সম্পাদক যতই বলে দিক না কেন- এমন হবে এমন হবে…, হয় কিন্তু অন্যরকম।কারণ সাহিত্যপত্রিকা একক সম্পাদক কেন্দ্রীক নয়- এর সাথে জড়িয়ে থাকে বিভিন্ন মানসের বিভিন্ন রুচির লেখক , বিজ্ঞাপন দাতা এবং পৃষ্টপোষকের রুচির ভিন্নতা।তাই আধুনিক যে কোনো মাধ্যমই যৌথ শিল্প।
প্রকাশিত হতে হতে কালি ও কলম এর চারিত্র দাড়িয়ে গেছে একটু চিত্রকলা ঘেষা এবং উটতি মধ্যবিত্তের ড্রয়ংরুমের রুচি কেন্দ্রীক।বাংলা একাডেমীর উত্তরাধিকার হয়েগেছে বারোয়ারী চরিত্রের এবং একটু আতলামী ঘেষা। বইয়ের জগৎ হয়েগেছে- বুকরিভিউ। হারিয়ে গেছে আবহমান, একবিংশ, গান্ডীব,উষালোক, উলুখাগরা। মাঝে মাঝে উঁকি দেয় এগুলো। কেউ পায় কেউ পায় না।অন্যগুলো এখনো কোনো চারিত্র ধারণ করে ওঠেনি।

কবি ও শিল্পী শাহাবুদ্দীন নাগরী সম্পাদিত একটি সাহিত্যের কাগজ স্লোগানের লেখা ম্যাগটি ইতোমধ্যে চারটি সংখ্যা বের হয়েছে।সাম্প্রতিক সংখ্যা জুন২০১৫। এ সংখ্যায় সৃজনশীল লেখার চাইতে বই আলোচনাই প্রাধান্য পেয়েছে।তবে দুটো প্রবন্ধ,দুটো গল্প, একটি ভ্রমন, একগুচছ তারুণ্যের কবিতা এবং একক কবি ও কবিতা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে ষাটের আমরা তামাটে জাতি খ্যাত কবি নুরুল হূদা।

প্রসঙ্গ ছিলো সাহিত্যপত্রিকার চারিত্র নিয়ে।শুরু থেকে লেখা সম্পাদক গবেষণা প্রবন্ধের প্রতি তার পক্ষপাতের কথা জানালেও পাঠক তেমন লেখা এখনো পায়নি।তবে এ সংখ্যার সুচিবদ্ধ প্রবন্ধ ও বই আলোচনার প্রায় ক টি যথেষ্ট মান সম্পন্ন।

এ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীন অধ্যাপক ড. আবুলকাসেম ফজলুল হ ও কথাশিল্পী রফিকুর রশিদ। বাংলাদেশের সংস্কৃতি সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে লেখা ড. কাসেমের প্রবন্ধটি পাঠকের ভাবনা জাগাবে।এটি সময় উপযোগী ভাবর উপস্থাপনা।তবে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সাম্প্রতিক চারিত্রনিয়ে তাঁর মন্তব্য সংযোজন যোগ্য।

অধিপতি শ্রেনীর লোকেরা বুদ্ধিজীবীরা উচ্চপদস্থ আমলা, এনজিওপতিরা ও ধনিক বনিকেরা সচেতন কথাবার্তায়, সেমিনারে সিম্পোজিয়ামে, আনুষ্ঠানিক আলোচনায়, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সময়ে আশার কথা বলে থাকেন। যেটা যান্ত্রিক ব্যাপার , সাধারণত তাতে আন্তরিকতার কিংবা আবেগ অনুভূতির সংযোগ থাকে না। সার্বিক বিবেচনা পরিহার করে খন্ড খন্ড,ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র, বিশেষ বিশেষ বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন। তাদের আলোচনার বিষয় ও পদ্ধতি ও পূর্বনির্ধারিত থাকে। চুড়ান্ত নির্ধারক শক্তির অবস্থান বাংলাদেশের ভেতরে নয় ওয়াশিংটনে , লন্ডনে, প্যারিসে।- কিন্ত এ দীর্ঘ মূল্যায়নে ড.কাসেম কেন ভারতের কথা বললেন না ? তা সত্যিই রহস্যময়।

তিনি আমাদের লোক- শিরোনামে রফিকুর রশিদের প্রবন্ধটি সাধারণ মানুষের প্রতি কবি গুরুর অনুভূতি ও অবস্থানকে তুলে ধরার চেষ্টা আছে।প্রবন্ধের উপান্তে প্রবন্ধকারের আবেগঘন উক্তি- পূর্ববঙ্গ তথা এই বাংলাদেশের আকাশ বাতাস,জল-হাওয়া বঝিবা তাকে করে তোলে সর্বমনবের কবি, ব্রত্যজনের কবি, এবং এ ভূভাগে দাঁড়িয়ে আমরা দাবি করতে পারি – তিনি আমাদের কবি। কিন্তু অনুজ্জ্বল রবীন্দ্রনাথের বঙ্গভঙ্গের পক্ষে অবস্থান কেন এর বিপরীতে প্রশ্নবিদ্ধ নয়? তা তিনি ভাবলেন না।

বই আলোচনা পর্বের দশটি আলোচনা বৈচিত্র্যময়।অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের প্রবন্ধ ওড়াউড়ির দিন, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনের গল্প ইজ্জত, ময়ুখচৌধুরীর কাব্য পলাতক পেণ্ডুলাম,কথাশিল্পী ফরিদুর রেজা সাগরের কথকতা মানুষের মুখ-৪ ,কবি ও আমলা কামাল চৌধুরীর উড়ে যাওয়া বাতাসে ভাষা , নন্দিত কথাশিল্পী মঈনুল আহসান সাবেরের উপন্যাস আবদুল জলিল যে কারনে মারা গেল,ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর সম্পাদনা জীবনানন্দ দাশের চিঠিপত্র, কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের রবীন্দ্রগবেষণা দক্ষিণ সূর্যোদয়, কবি মাহবুব আজীজের নৌকোটি যখন ভিড়বে, কথাকার জুয়েল মোস্তফিজের মেরাতুন্নেসা মনমহাজনের কথা নিয়ে আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে।

সায়ীদ স্যারের উপর তপন বাগচীর আলোচনাটি একাডেমীক।মেদহীন এবং চমৎকার। ইজ্জত নিয়ে মাসুদুল হকের আলোচনাটি প্রথম দিকে যতটা বিস্তৃত শেষ পর্যায়ে একটি সাধারণ মন্তব্য দিয়ে ইতি টানে।মূলতো আলোচনাটি অসম্পূর্ণ। আহমেদ বাসারের ময়ুখ চৌধুরীর কাব্য আলোচনা আলো ফেলেনি পষ্টভাবে। কবিতা আলোচনা ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিভংগি থেকে শুরু হওয়াতে রসবোধ চমকে উঠেছে পাঠকের। ময়ুখ চৌধুরীর রোমান্টকতা ও পরাবাস্তব বরাভয় উন্মোচনের চাইতে আলোচকের সুচিবিদ্ধ করার প্রবণতা ও কিছু শব্দ ব্যবহার আলোচনাকে পাঠ উপভোগ্য করেনি। কবির সম্পর্কে শেষ মন্তব্যটি শিল্পীত হয়নি।সম্পাদক ও স্টালিনের আলোচনাটি সুখপাঠ্য। ঔপন্যাসিক সাবেরের উপর আলোচনাটি অগভীর। আলোচক উপন্যাসের নামকরনের নান্দনিকতা ও উপস্থাপনার স্বাতন্ত্র উপলব্ধি করতে পারেন নি।চিঠিপত্র নিয়ে আলোচনা পাঠ বৈচিত্র এনেছেন সম্পাদক তবে আবদুল মান্নান সৈয়দের কাজটির সাথে তুলনামুলক আলোচনা হলে পাঠক উপকৃত হতো।রবীন্দ্রনাথের বহির বিস্তার নিয়ে রাজু আলাউদ্দিনের গবেষণা দক্ষিণে সূর্যোদয়। নওশাদ জামিলের আলোচনাও হৃদ্য । আমাদের ওকোম্পা মুগ্ধতার বিস্তার ঘটিয়েছেন লেখক ওআলোচক। কবি শঙ্খ ঘোষ ও শিল্প সুরসিক আলম খোরশেদের ওকম্পো নিয়ে কাজগুলো বাঙালি পাঠককে রুচিশীল করে তুলেছেন তাই এ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ রবীন্দ্র চর্চার এ বিস্তারে রুচিশীল পাঠকের গ্রহ্যতা পাবে।তরুণ কবি মাহবুব আজীজ ও জুয়েল মোস্তাফিজের কথকতা নিয়ে আলোচনা উপভোগ্য।

সাথে সাথে লেখার একটি চারিত্র চিহ্ণিত হয় ।সম্পাদক নেপথ্য থেকে আমাদের আলোচনা সাহিত্যের একটি ধারা তৈরীতে ভূমিকা রাখার চেষটা করছেন লেখার মাধ্যমে। আর তা নিরেট গবেষণার নিরঘন্ট তৈরীর মতো পোকা খাওয়ার জন্য নয়, তা যে সাধারণ পাঠক রুচির কাছাকাছি থাকে।

লেখার প্রথম সংখ্যাটিতে থেকে আমরা লক্ষ্য করছি ভ্রমন সাহিত্যের উপর পক্ষপাত। এবং কবিতার চমৎকার উপস্থাপনা। বাংলা কবিতা যেখানে দৈনিক পত্রিতার সাহিত্য সম্পাদকের দয়ার উপর টিকে আছে , সেখানে চার রঙা প্রচ্ছদ নিয়ে কবিতার বর্ণাঢ্য উপস্থিতি সত্যি কবিতার লেখক পাঠক এবং শত্রুদেরও মুগ্ধ করে। লেখার এ চারিত্র অটুট থাক অনন্ত কাল। কারণ কবিতা কবির স্বপ্নময় মূহূর্তের সৃষ্টি গদ্যময় যাপনের নয়। তাই স্বপ্নের মতো রঙ্গিন উপস্থাপনাই যথার্থ।তারুণ্যের প্রতি লেখার এ পক্ষপাক আর একটি চারিত্র লক্ষণ হয়ে থাকবে আমাদের সাহিত্যের কাগজগুলোতে ।

লেখা শুরু থেকেই ঐতিহ্য সচেতন। আমাদের ইতিহাসের কৃতিমানদের উপস্থানায় তার কার্পন্য নেই। রবীন্দ্র নজরুল -জীবনানন্দ- ফররুখ -সুধীদ্র আলোচনার পাদপ্রদীপে এসেছে, তা যেন আরো বিস্তৃত হয়। সমকালের সাথে ঐতিহ্যের মিথস্কিয়া না হলে মহৎ সাহিত্য রচনা দূরহ হয়।

বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের একটি নবতর ধারা শুরু করছিলেন সব্যসাচী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দ- পত্রপ্রবন্ধ। সরাসরি চিঠিপত্র কলাম নয়, পত্রপ্রবন্ধের এ ধারাকে পরিকল্পিত উপস্থাপনের উদ্যোগ নিক লেখা। প্রতিটি সংখ্যায় একজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের উপস্থাপনায় হোক এ প্রয়াশ| দূর মূল্যের বাজারে মূল্য মাত্র ঃ ৫০ টাকা।শুভ হোক লেখার আগামীর পথ চলা।জিয়ো।

গালিবের গজল থেকে

বাংলাদেশে মহাকবি মীর্জা আসাদুল্লাহ খা গালিব কে নিয়ে প্রথম একান্তভাবে কাজ করেন কবি ও চিন্তুক মনির উদ্দিন ইউসুফ।যিনি বাঙলা ভাষায় ফারসী থেকে ইরানীমহাকাব্য শাহনামার সফল অনুবাদ উপহার দিয়ে ছিলেন।কবি ও চিন্তুক হিসেবে তারঁ ধী শক্তি সত্যিই সচেতন পাঠককে বিস্মিত করে।বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র মূল্যায়নে তারঁ একটি অনন্য মাত্রা আজ ও মূল্যায়ন হয়নি।এছাড়া তাকে মূল্যায়নের যোগ্য ব্যাক্তিও খুব স্বল্প।
কবি ও চিন্তুক মনির উদ্দিন ইউসুফ ১৯৬০ সালের দিকে গালিব চর্চা শুরু করেন।৯০ দশকে পশ্চিমবঙ্গের লেখিকা যূথিকা তলাপাত্র আতিশ- এ – গালিব লিখে আধুনিক পাঠকের দৃষ্টি ফেরান আঠারো শতকের এ কবির দিকে।যা এক সাথে ছিলো জীবনী ও কবিতা পাঠ।সত্যি যা ছিলো অনন্য।
২০০৪ সালে গালিবের গজল শিরোনামে ড. মফিজ চৌধুরীর একটি অনুবাদ প্রকাশ হয় মোহাম্মদ সা.দাত আলীর সম্পাদনায়।যা ছিলো প্রায় ৪০ বছর আগে করা একটি অনুবাদ কৃতির্ – যা সম্পাদকদের আলস্যের বদন্যতায় প্রকাশ পেয়েছে অনবাদকের মৃতু্যর দশ বছর পর।ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পাঠক সমাজ আরও একটি গালিবের অনুবাদ উপহার পায় আশি দশকের কবি ও কথাশিল্পী বুলবুল সরওয়ারের কাছ থেকে- মীর্জা গালিবের গজল শিরোনামে।চট্রগ্রামের নন্দন প্রকাশনের এ প্রকাশনা সুধী সমাজের ঈষর্ার দৃষ্টি কেড়েছে।ইংরেজি থেকে অনুবাদ হলেও অনুবাদক গালিব ঘরাণার সাথে পরিচিত বলে এবং ভাষা বৈশিষ্ট্যে এগানা বলে অনুবাদগুলো হয়ে ওঠেছে উপভোগ্য।
মীর্জা গালিবের শায়েরীর সাথে যাদের উঠাবসা নেই , তারা বুলবুলের অনুবাদের রস গ্রহনে ব্যর্থ হবেন না।ইতোমধ্যে বাঙালি পাঠক শুধু নয় লেখকরাও আচমিত হয়েছেন গালিবের শায়েরীতে। এর পেছনে নেপথ্য ভূমিকা রেখেছে নাসির উদ্দিন শাহ পরিচালিত ধারাবাহিক এপিসোড মীর্জা গালিব ও জগজিৎ সিং এর অনন্য গজল গাওয়া।আকুল প্লাবি প্রেমে ছুঁয়েছে নব্বই দশকের তারুণ্যই নয় পঞ্চাশের কবি সৈয়দ লিখেন গালিবের জীবন ও কৃতর্ি নিয়ে নব আঙগিকে নিজস্ব কবিতা।ষাটের কথাশিল্পী সেনিনা হোসেন লিখেন যমুনা নদীর মোশাহিদা । দুটিই আলাদা ভাবে মূল্যায়নের দাবী রাখে।পশ্চিমবঙগে গালিব কে নিয়ে আরও তিনটি গ্রন্থ আলোর মুখ দেখেছে। পুষ্পিত মুখপাধ্যায়ের অনুবাদে প্রকাশ পেয়েছে গালিবের পত্রাবলী,গালিবের নিজের লেখা আত্মজীবনী দস্তুব, ও গালিবকে নিয়ে লেখা প্রথম স্মৃতিচারণ গ্রন্থ মৌলনা আলতাফ হোসেন হালির লেখা গালিবের স্মৃতি।যা সত্যি গালিব পাঠকের জন্য মহার্ঘ্য।গালিবের গজলের পাশাপাশি তার জীবনও গজলময়। পাঠক তুমুল ভাবে আলোড়িত হবেন এ তিনটি বই পাঠে। সাথে বুলবুল সরওয়ারের অনুবাদগুলো পড়তে ভুলবেন না।

2015/04/img_7598-0.jpg
গালিবের গজল থেকে // মাঈনউদ্দিন জাহেদ

গজল অর্থাৎ প্রেমালাপ- যারবিচিত্র চিন্তার প্রকাশ- পরিধি বিশাল , বিরহ থেকে মিলন আকাঙ্ক- হতাশা-ব্যথা-বেদনা-স্বাদ-আহ্লাদ-ঈর্ষা-যন্ত্রনা-ক্রটি,অভিমান-আর্তি। গজল শুরু হয় যে দু‘টো চরণ দিয়ে তাকে বলা হয় মাতলা ।প্রথম পংক্তিরশেষ শব্দটি আগের শব্দ দ্বিতীয় পংক্তির শেষ শব্দটির আগের একটি শব্দের সঙ্গেঁধ্বনিগত মিল থাকতে হয়। এ মিলকে বলা হয় ‘কাফিয়া’। গজলের পরবর্তী প্রতিটি কবিতার দ্বিতীয় পংক্তিরশেষ শব্দটি‘ মাতলা’র দ্বিতীয় পংক্তির শেষ শব্দটির স্থানে বার বার ছন্দিত হবে, আর এর নাম ‘রাফিফ’। গজলের দু’টো মিল। একটি ধ্বনিগত-কাফিয়া, দ্বিতীয়টি রাদিফ শব্দগতরা পুনরাবৃত্তি। গজলের শেষ কবিতা কে বলে মাকতা। বাংলা কবিতায় ঈশ্বের গুপ্তের কবিতাবলীতে এ মিল পাওয়া যায়। গজলের নায়িকা কখনওকিশোরী নয় বরং হয় তারা যুবতী – যে মনোরঞ্জন প্রাঞ্জ। তাকে বলা হয় ‘তাওয়াযেফ’- যাকে উদ্দেশ্য করে গজল রচনা হতো তারা সাধারণত পান সভায় গজলের সুরেনাচতেন । একনিষ্ঠ না হলেও যারা তন্ময় মূহুতের একান্ত জন। গজলের গাওয়ার একটিনির্দিষ্ট ঢং আছে। যাতে অভিজাত বাংলার তরুনী কিংবা অনিন্দ্য সুন্দরী নৃত্যপটিরসীরা। তাদের ধনাঢ্য বণিক বা আমীর-ওমরাদের মনোরঞ্চনের জন্য নিজেদের রুপকে তুলেধরতে। যা রক্ষনশীল মুসলিম সমাজে শালীনতার আড়ালে আর একটি বিকৃতি । বিশিষ্ট চিন্তকআবু সায়ীদ আইয়ুবের মূল্যায়ন হচ্ছে। এই শালীনতা বোধ, যার আওয়াতায় সমযৌন প্রেমউনবিংশ শতাব্দীর উর্দু কাব্যে সমাদৃত হলো।এবং নারীর প্রতি প্রতি পুরুষের ভালোবাসা বহিস্কৃত হলো বা প্রচ্ছন্ন রইলো আমাদের আজকের রুচিতে যতোই অদ্ভুত ঠেকুক,তাকে অস্বীকার করার জো নেই । তেমনি ভাবে বাঙালি মুসলিম বিত্তশালী সমাজে ঢুকেগিয়েছিল ঊনিশ শতকে ‘ঘেটুপুত্র’ রাখার প্রবণতা আর বাঙালি হিন্দু সমাজে কালি পুজাউপলক্ষে ‘নাটটো পোয়া’ নাচনো প্রথা । সামাজিক বিবর্তনের মধ্যদিয়ে অনেক বিকৃতি এখন লোপ পেয়েছেঠিকই ,তবে তাদের ক্ষতের চিহৃ বয়ে চলছে। আমাদের ইতিহাস গজল নিয়ে একটি বিমোহিত বোধ আছে রুচিশীল শিক্ষিত সমাজে । এটা একধরনের নষ্টালজিয়া । আমাদের ভেতরের অপ্রাপ্তিগুলো কে আমরা ভাব-গানের মাঝে খুজিফিরি।উর্দ্দু সাহিত্যের অসাধারণ গজলশিল্পী মীর্জা গালিব। তার গজল থেকে ক’টি ভাবঅনুবাদ-

Pগজল -১
যে আমি বার বার খুলি দরজা-জানালা
সেকি এলো সেকি এলো
বধুর চিঠি নিয়ে এলো নাকি বায়ূ-
বিশাদে আকাশ এলোমেলো
সে এলে আমার ঘরে বসে থাকি অবিরত
খোদার কি কুদরত!
এক বার দেখি ওকে, আবার দেখি ঘর
শূন্য ঘরে একি স্বপ্নীল জগৎ?
হৃদয়ের ক্ষত হৃদয়েই থাক
দেখবে কেন অন্য লোক?
দেহ-সৌষ্টব্যে পড়বে নজর-
দেখে যদি হিংসুটে লোক!
কী আর দেখবে তার -যার মাথায়
শোভা পায় মানিক্য মুকুট
বন্ধুর মাথায় মুক্তো জ্বলে আমি জ্বলি ঈর্ষায়
তার ভাগ্য নিয়ে করি আমি মাথা কুট্-কুটু্

গজল -২
নাইবা যদি কাঁদতাম আমি
এঘর হোতা বিরনে ভূমি ;
সাগর না হয় ,হতো মহাসাগর
কিংবা হতো মরুভূমি ।
হৃদয়ের কথা কি আর বলবো
দিলতো নয় কাফের দিল
কমিনা নাহলে এ দিল কি আর
এমন পেরেশান হয়ে যেতো ।
জীবনের এই তপস্যা শেষে-
একবারও তোমার দেখা না পেলে ;
তার চেয়ে তো ঢের ভালো হতো জীবন
তোমার ঘরের দারওয়ান হলে ।

গজল-৩
চলে বলে চাই এমন কোন খানে –
যেখানে নেই কেউ;
সমব্যথী নেই সমভাষী নেই
চলো চলে যাই; সেই খানে।
চলো বাধিঁ ঘর দরোজা জানালাহীন ,
প্রাচীরও ছাদহীন ;
নেই কোন প্রতিবেশী ,
নেই বলবার কেউ
আমি তুমি বন্ধনহীন ,,.
ভুগি যদি রোগ-শোকে? দেখবার কেউ নেই
মৃত্যু যদি বা আসে, কাদঁবার কেউ নেই ।

গজল- ৪
এসো তুমি প্রাণ যায় যায়
এসো তুমি! অপেক্ষার ধর্য্য নেই আর ।
জীবনশেষে দেহেম্বত্ত পাইও যদি
জীবনশেষে জ্বালার সেকী হয় প্রতিদান ?
তোমার মেহফিলে যদি কেঁদে ফেলি ?
ভয়ে তাই মরে যাই;
প্রাণ ভরে কাঁদার মতো পাইনা একটু ঠাঁই !
হায় ….হায় …..হায় ।
আমার হৃদয়ের কোথায় আছে হিংসা -ক্রোধ
প্রেমের ভস্মস্তুপে থাকে না কোনো বিরোধ;
আমাকে হত্যার যদি করো শপথ !
ভেঙ্গে না প্রতিঞ্জা যেন আবার ;
শপথ করেছে গালিব মাতাল হবে না,
নয়তো হবে না বন্ধুর প্রতিঞ্জা পালন ।

গজল -৫
আয়নাতে দেখে চুপ কেন? প্রেমে লাজ ?
হৃদয় দেবে না বলে গর্ব ছিলো; করো সাজ;
পত্রবাহকের প্রাণ নিয়োনা তোমার হাতে ;
নেই তার অপরাধ,তার তাতে
যা কিছু হয়েছে আমার অপরাধ সকলি আমার ।