সেপ্টেম্বর সিরিজ: মাঈন উদ্দিন জাহেদ

sm-sultan-09

 সেপ্টেম্বর ছুঁয়েছে যাকে

সেপ্টেম্বর ছুঁয়েছে যাকে হৃদয় ছিঁড়েছে তার,
গীন্সবার্গ হেঁটে যায় হৃদয়ের পথে;
কুয়াকাটায় সূর্য ওঠে,সূর্য ডুবে মনে
জীবনের আছে বুঝি নানা রূপ মানে।
শিমূলেরা গান গায় কার্তিক সন্ধ্যায়,
সেপ্টেম্বর ছুঁয়ে যায়, ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় ;
গীন্সবার্গ হেঁটে হেঁটে স্বপ্নের ভিড়ে-
পায়ে পায়ে ছড়ায় জীবন;
জীবনের নানা রঙ, রঙ বেরঙ মন।

 সেপ্টেম্বরের মেঘরৌদ্র
সেপ্টেম্বরের আকাশ মেঘলা হলে
তাকে কাদ্ম্বরী ডাকলে মন্দ হয়না
তবে যে দ্বন্দ্ব হয়;
রবীন্দ্রনাথ তেড়ে আসতে পারন।
তাঁর গোপন চিঠি ফাঁস করে দেবো বলে
কবিতার ক্লাস থেকে বের করে দেন।
গদ্যের বারান্দায় বড়বেশি বেমানান হবো;
তাই তোমাকে ইরা ডাকবো।
তোমাকে নিরাও ডাক তে পারি-
ব্যঞ্জনবর্ণের চমৎকার সমন্বয় এতে;
কিন্তু ঐযে সুনীল নিরা নিরা বলে চিৎকার করে-
ওতো পুরনোপ্রেম-পঞ্চাশের নায়িকা;
তোমাকে তাই ইরা ডাকা।
তুমিতো কবিতা স্বপ্ন মগ্ন স্বপ্নীল চাওয়া-
সারগামের চ মৎকার আবৃত্তি হওয়া।
ইরা!স্বর-ব্যঞ্জনেরপ্রেম-স্বপ্নীল হওয়া
এবং তুমি সেপ্টেম্বরের মেঘরৌদ্র
এবং তুমি ইরা ইরা ইরা

সেপ্টেম্বরঃ আগুনের বোন তুমি, ফাগুনের বোন

সেপ্টেম্বর আসে যায় সেপ্টেম্বরতো আগুন
এই সেপ্টেম্বরেই দেখেছি তোমার ফাগুন…
তুমিতো আগুন নও তুমিতো ফাগুন
জয় শ্রী …
জয় গুণ …
তোমার ছুয়েঁচছি আমি অহংকার বাদামী;
তোমার ছোঁবনা আমি যাপনের ভাঁড়ামী;
পাশকাটি পাশফিরি- পাশবিক উল্লাসে;
রাত যায় জেগে জেগে-বোধের বিন্যাসে।
জয় শ্রী…
জয় গুণ…
তোমাকে সেলাম কুটুম…।
জয় গুণ…
জয় ফাগুন…
বোধ আর ক্রোধ আমার তোমার মাঝে বসত গড়েছে
নিয়ত জ্বলে ওঠে তুষের আগুন;
সেপ্টেম্বর আসে যায় সেপ্টেম্বরতো আগুন।

সেপ্টেম্বর মানে বাউল হয়ে যাওয়া

ফাগুন এলে তাকে অন্য রকম সেপ্টেম্বর মনে হয়
রোদগুলো গুছানো মেঘের মতো কিশোরীর ফ্রক হয়ে খেলা করে,
চৈতন্য জুড়ে শুধু পাখা ঝাপটায় শাদা শাদা বক;
মিঠেলা রোদ আর ঝিলের জলে স্নান সারে সেপ্টেম্বর।

সেপ্টেম্বর মানে ভেতরে ভেতরে আউল-বাউল হয়ে যাওয়া,
সেপ্টেম্বর মানে উপরে সুনসান গুছানো ফুলবাবু;
সেপ্টেম্বর মানে মিঠেলা রোদের হাসি ঝিলের জলে পাখিদের স্নান
কিংবা ইউক্যালিপ্টাস শিশির থেকে তোমার ঘ্রাণ নেওয়া
এবং ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া… ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া…
সেপ্টেম্বর মানে ফাগুন লাগা অন্য রকম বাউল হয়ে যাওয়া।

সেপ্টেম্বরের ইলশে রোদ ঘিয়ে বিষ্টি
এবং হলুদ রৌদ্রের পালানো দেখে থেমে গেলে
ঘিয়ে রোদ ইলশে বিশটির সাথে চুপচাপ ঝুপঝাপ;
তরুণী ভিজছে সিঁড়িতে এবং একজন ভিতরে…
সেপ্টেম্বরের ইউক্যালিপ্টাস ভিজছে
ফতুয়া ভাঁজ করছে একজন;
আড়চোখে ইউক্যালিপ্টাস দেখছে;
শিশির কুড়াচ্ছে একজন
এবং তরুণী ভিজছে…
মুখটিপে হাসছে ইউক্যালিপ্টাস, তরুণী কিংবা বিষ্টি।

আশলে সেপ্টেম্বরের রৌদ্র পালাচ্ছে বিষ্টি হচ্ছে
আশলে সেপ্টেম্বরের বিষ্টি হচ্ছে ইউক্যালিপ্টাস ভিজছে
আশলে ফতুয়া-উড়ণীর ভাঁজের আড়ালে কাঁপছে প্রাণ
এবং তুমুলভাবে ভিজতে ভিজতে হয়ে ওঠে
ইলশে রোদ ঘিয়ে বিষ্টি’র ঝুপঝাপ-চুপচাপ পটভূমি।

মাঈন উদ্দিন জাহেদ এর একগুচ্ছ কবিতা

গোলাপের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

দেখো,আমি বাউণ্ডুলে হতে চাইনি;
অথচ তোমার জন্য আমার বাউল হয়ে যাওয়ার কথা।
তোমার গোলাপ গ্রীবা ছুঁয়ে ক্ষরণ হয়ে ছিলো বেশ,
হাতে হাত রেখে নি:শব্দে পাড় করেছি দীর্ঘ সময় ও পথ।
আমাদের সমস্ত অনুভূতি বিকশিত হতো পাপড়ির নৃত্যে,
কথা হতো নীরবতার দীর্ঘল বয়ানের থরে থরে,
কিন্তু আমরা কেউ ইথারে ভাসায়নি দু:খ জাগানিয়া গান।
একদিন সাহিত্য আড্ডায় ধমক দিয়ে বলেছিলো মান্নান সৈয়দ –
এখন স্বভাব কবির যুগ নয়, স্বাভাবিক কবিতার কাল,
তোমাকে যেতে হবে বহু দূর, ধরো না কিন্তু অাউলা সুর।

আমি কবিতা ভালোবেশে জীবনকে করেছি বাস্তব,
এবং তোমার দীর্ঘ নীরবতা আমি সয়ে গেছি কি নিপূণ অভিনয়ে,
তোমাকে ছুঁয়ে গেছি চেতনায়, বাস্তবে না ছু্ঁয়ে ছুঁয়ে।
বহমান সময়ে শরীর থেকে জেগেছে দু’ দু’টি পালক
ওরা উড়ছে এখন- কি দারুণ হয়েগেছি বৃক্ষআবয়ব।
ডালে বসে পাখি, কত পাখি উড়ে এসে চঞ্চু ঠেকে বৃক্ষ শরীরে,
কী নিপূণ অনুভূতি পাখিদের ঠোট ছুঁয়ে ছুঁয়ে।
যাপনের পথে পথে সব কিছু কী শরীর ঘেষা?
শরীরের অধিক কিছু আছে হৃদয় ইতিহাসে;
আছে কিছু স্মৃতি, কিছু অনুভূতি,কিছু ভালোলাগা না লাগা,
গোলাপ! তোমার কাছে প্রথম পাঠ,সব কিছু একটু একটু শেখা।

জীবনের চলতি পথে দেখে যাওয়া একটু একটু সব,
দেখো তোমার বিরহে হইনি কবি নীরব।
ক্ষমা চাই গোলাপের কাছে, তোমাকে পেতে সইতে হতো
কিছু কাঁটার যন্ত্রণা,
ক্ষমা চাই, এখন তা আর আমি পেতে চাই না।
…………………….
০৪.০১.২০১৬

jahede

ফানা-১

তোমাকে ধারণ করেছি ঠোটে
তোমাকে ধারণ করেছি বুকে
তোমাকে ধারণ করেছি হৃদয়ে
তোমাকে ধারণ করেছি সত্তায়;
আর কতটুকু ধারণ করলে তুমি, আমি হবে?
কিংবা একান্ত আমি  হবো তোমার?
এমনই ফানা হতে চাই-
তোমাকে যদি না পাই?
আমার আসাইতো ব্যার্থ হবে;
মুসার মতো জ্বলে যেতে চাই:
ছাই হয়ে আশ্রয় নেবো

হয়তো কোনো প্রিয়ার সুরমায় ।

………………….
৩০.১১.২০১

তোমার শহরের গল্পগাঁথা 
সমস্ত গলি উপগলি পেরিয়ে একদিন পৌছে গিয়েছিলাম তোমার শহরে,
অথচ কতো অালস্যে আমি পার করেছি দিন দিন মুদ্রা ছুড়ে ছুড়ে।
কষ্টের বারান্দা দেখে যে শিউরে উঠতো আলু থালু ভাবে,
সে না কি মনে পেরিয়ে গেছি শ’ শ’ ছাপ্পান্নো মাইল পথে।
অথচ মাঝখানে কতো না ব্রেকাপ, জাগে মান অভিমানের চর,
সময় মানুষকে সত্য শেখায় যেমনি শেখায় অসময়,
তোমাকে নিত্য ভেবে অনিত্যকে করেছি করেছি আমি পর;
তোমার পিংক আভা উড়িয়ে উড়িয়ে মসৃণ ঘ্রীবায়-
অবশেষে জেনে গেছি অনিত্যই পরম সত্য এই ইহ জীবনে,
তারায় তারায় ছড়িয়ে পড়েছে তুমি শুধু তোমার নাগরিক ধূমধামে।
তোমার শহরে এখন যখন যাই- জাগে না কোনো স্মৃতিগাঁথা,
কি চমৎকার সাম্প্রতিক হয়ে মুন্ডুবইয়ে খুঁজি- তুমি আমি কথা;
মনুষ্য জন্ম এমন ভেবে প্রজন্মকে শুনায় জীবনের বাখান,
দুষ্টু-মিষ্টি-বখাটে হয়ে ওরা তবলা বাজায় – কাঁটেনা নৃত্যের তান।
……………………….
০৭.১১.২০১৫

অমিত লাবণ্য
এমন অসময়ে ঘুমোতে দেখে চেঁচালে, তুমি উঠলে না;
আলতো টোকা কপালে দিলে, তুমি নড়লে না;
অথচ তোমার মুখচিত্র দেখে বোঝা যায় জেগে আছো;
অথচ ইচ্ছে ছিলো টোকার অধিক আরো কিছু-
মুখোভূগোলের দ্বিখন্ডিত গোলাপ পাতাটি ছুঁয়ে
অথবা আলতো ছুঁয়ে কপোল, নাচের মুদ্রা তুলি দু’আঙ্গুলে।
অথচ দ্বিধার বারান্দা পেরিয়ে কম্পন দেখা হলো না আর;
কথাগুলো স্মৃতিতে ভাসাতে ভাসাতে খুঁজি ফিরি
নিজস্ব গ্রন্থগারের খুঁজে না পাওয়া গল্প উপন্যাসগুলো;
ফিরে না পাওয়া গল্পের পৃষ্ঠাগুলোতে,
বর্ণে বর্ণে স্পর্শ লেগে আছে তোমার আমার;
তোমাকে লাবণ্য করে, আমিতো অমিত;
দু’জন দু’কুলে গিয়ে স্মৃতি ও বর্ণে খুঁজি শেষের কবিতা।
বড্ডো শীত পড়ছে কবিতার খাতা ও শেয়ার সূচকে;
বইগুলো নাইবা ফেরত দিলে- ই-বুকের যুগে,
চ্যাটতো করতে পারো ভার্চুয়াল সুযোগে।
………………….
২১.১১.২০১৫

তমসার গান
মৃত্যু আমায় নিয়ে যায় ঘুমে, আনেক রাত্রি শেষে;
মৃত্যুর অধিক জিঘাংসার ক্ষুধা, একটু একটু এসে;
তোমাকে লোভাতুর করে ভাসাতে ভাসাতে,
মৃত্যুর অধিক দাম্ভিক হতে উল্লাসে উল্লাসে;
আমাকে নিয়ে যায় শেষে… শেষে… অবশেষে…
অনাস্বাদিত আঙুর বাগানে এসে, হেসে হেসে।
………………
২২.১১.২০১৫

আমি একটু ঘুমাবো
আমি একটু ঘুমাবো
ভীষণ ক্লান্ত এখন চোখেতে জীবন আবছা আবছা;
এতোটুকু বাকী নেই মানবিক সম্পর্কের আশা
কেটে দিচ্ছো যাপিত সম্প র্কের সূতো
তোমার জন্য আমার করা সমস্ত ইতিবৃত্ত মুছে দিয়ে
কী করে তুমি ভাবো আমিও কাঙাল হবো
তোমার তাচ্ছিল্লের আভা মেখে আমি হবো –
সাম্প্রতিক স্বপ্নের ফেরারি চন্দ্রীমা।
আমি ঘুমাবো
-তারপর আড়মোরা ভেঙে নতুন দিনের কথা ভাব্বো ;
য়ুরোপ!

স্পর্শ বাটন
এখন আর মুন্ডুবইয়ে তোমার ছবিগুলো লাইক দেওয়া হয় না,
আমার স্পশর্ ঐ বাটনে পৌঁছে যেতো তোমার অনুভূতি বাতর্ায়।
আজকাল এভাবে আর চলে না,কেনো জানি মনে হয়-
ইচ্ছের সম্মানটুকু খুয়ে যাচ্ছে এভাবে ;
তোমার চারপাশের পরিব্যপ্ত জনমন পবন ছুঁয়ে নিচ্ছে
আমার একান্ত স্পশর্গুলো – যেখানে আমি একা সার্বভৌম-
এমন জনগণমন করেদিতে পারি না আমি স্পশর্ের আনন্দটুকু-
যেটুকু আমার একান্ত গভীর গোপন।
কেউ জানুক বা না জানুক ! তুমিতো জানো-
ভালোবাসা চিরকাল চলেগেছে অবাণিজ্যের পথ ধরে হৃদয় ইতিহাসে;
তেমন পড়েছি আমি যাপনের গ্রন্থ খুলে, ক্ষরণের মোমবাতি জ্বেলে।
নেটিজেন হয়ে আরও একটি বাটন খুঁজছি একান্ত স্পর্শবার্তার।
………………….
১০.১১.২০১৫

স্মৃতিস্বত্বার গান
সময়গুলো থমকে গেছে স্মৃতির কাছে
স্মৃতিগুলো চমকে চমকে উথলে ওঠে;
তোমার জন্য খামখেয়ালি সময়গুলো বিষন্ন হয়
তোমার জন্য মধ্যদুপুর তাতানো পিঠে রৌদ্রময়,
সুখ সকালে মায়াবী শিশির হাতবুলানো যন্ত্রণাতে
তোমার স্মৃতি চমকে ওঠে , চমকে ওঠে।
রিক্সাহুডে শহুরে রোডে যন্ত্রণাময় অমরাবতী দিনগুলোতে
স্বপ্নশেষে নেতিয়ে পড়া তোমার আমার মানগুলোতে
এসে এসে জমতে থাকে, জমতে থাকে- অভিমানের শীষর্ কায়া;
সবই গেছে, গেছে সবই, আশলে কী ভেস্তে গেছে এসব মায়া?
এখন তুমি কেমন আছো ধল প্রহরে?
মানগুলো কী আগের মতো তোমায় কাঁদায়?
সময়গুলো থমকে গেছে স্মৃতির কাছে-
স্মৃতিগুলো মূতর্ হয়ে থমকে গেছে তোমার কাছে?
নেই, তুমি নেই, এই ভূবনে- অমাবশ্যা;
তবুও চাঁদ উঠেছে আকাশ নীলায় মধ্যযামে-
নেই,ক্ষতি নেই, মরাবাস্তব স্বপ্নধামে
যাই বয়ে যায় স্মৃতির এমন আকাশ নীলা।
১৯.১০.২০১৫

বসন্তের গান

কোকিল ডাকিছে আমাদের গাঁয়ে
তোদের গাঁয়ে কি শীত নামে?
যেই ছুটে যাই সুরের টানে-
অসুরের গীত, হয় বামে।
ভ্যাটের মিছিলে আপামর সব
লেঠেল ছুটায় আজ কারা ?
বঙ্গ জননীর গীত বন্দনা
লাঠি গুলি সব তাড়া…তাড়া…
পথে নেমেছে বঙ্গ সন্তান-
পথে শেষ হবে, পথের দাবী;
কোকিল ডাকিছে আমাদের গাঁয়ে-
বসন্তের গান কারা গাবি ?
আয় ! কারা গাবি? কারা গাবি?
……………………..
১৪ সেপ্টেম্বর-২০১৫

১৫ আগস্ট
ব্যাক্তি আমাকে ছোঁয় না, ছোঁয় না ইতিহাসের খেরোপাতা
চিরকাল অনৈতিহাসের হালখাতা হয়ে ছুঁতে চেয়েছি তোমার চিবুক।
ইজেলে এঁটে , ফ্রেমে তুলির আঁচড় হয়ে বোধের বাড়ি-
তুমিও তাড়াতাড়ি ঘোমটা আঁটো আমার আড়াআড়ি;
রহস্যের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আর হয় না দেখা আমার তোমার,
এ কেমন বেচইন মন, মুখচ্ছবির প্রেমে হয় না আঁকা তোমার
আমার বিরহ কাহিনীগাঁথার শেষ সংলাপও-
আগস্ট মানে অনিশেষ দুঃখ- তোমার আমারও।

 

 

 

ফানা-১

তোমাকে ধারণ করেছি ঠোটে
তোমাকে ধারণ করেছি বুকে
তোমাকে ধারণ করেছি হৃদয়ে
তোমাকে ধারণ করেছি সত্তায়;
আর কতটুকু ধারণ করলে তুমি, আমি হবে?
কিংবা একান্ত আমি  হবো তোমার?
এমনই ফানা হতে চাই-
তোমাকে যদি না পাই?
আমার আসাইতো ব্যার্থ হবে;
মুসার মতো জলে  যেতে চাই:
ছাই হয়ে আশ্রয় নেবো                                 হয়তো কোনো প্রিয়ার সুরমায়

………………….
৩০.১১.২০১

image

তমসার গান

 মৃত্যু আমায় নিয়ে যায় ঘুমে, আনেক রাত্রি শেষে;

 মৃত্যুর অধিক জিঘাংসার ক্ষুধা, একটু একটু এসে;

তোমাকে লোভাতুর করে ভাসাতে ভাসাতে,

মৃত্যুর অধিক দাম্ভিক হতে উল্লাসে উল্লাসে;

আমাকে নিয়ে যায় শেষে… শেষে… অবশেষে… 

অনাস্বাদিত আঙুর বাগানে এসে, হেসে হেসে।

………………

২২.১১.২০১৫

আমি একটু ঘুমাবো

আমি একটু ঘুমাবো,

ভীষণ  ক্লান্ত এখন  চোখেতে জীবন আবছা আবছা;

এতোটুকু বাকী নেই মানবিক সম্পর্কের আশা
কেটে দিচ্ছো যাপিত সম্প র্কের সূতো
তোমার জন্য আমার করা সমস্ত ইতিবৃত্ত মুছে দিয়ে

কী করে তুমি ভাবো আমিও কাঙাল হবো

তোমার তাচ্ছিল্লের আভা মেখে আমি হবো –

সাম্প্রতিক  স্বপ্নের ফেরারি  চন্দ্রীমা।
আমি ঘুমাবো

-তারপর  আড়মোরা ভেঙে নতুন দিনের কথা ভাব্বো ;

য়ুরোপ!

image

তোমার শহরের গল্পগাঁথা

সমস্ত গলি উপগলি পেরিয়ে একদিন পৌছে গিয়েছিলাম তোমার শহরে,
অথচ কতো অালস্যে আমি পার করেছি দিন দিন মুদ্রা ছুড়ে ছুড়ে।
কষ্টের বারান্দা দেখে যে শিউরে উঠতো আলু থালু ভাবে,
সে না কি মনে পেরিয়ে গেছি শ’ শ’ ছাপ্পান্নো মাইল পথে।
অথচ মাঝখানে কতো না ব্রেকাপ, জাগে মান অভিমানের চর,
সময় মানুষকে সত্য শেখায় যেমনি শেখায় অসময়,
তোমাকে নিত্য ভেবে অনিত্যকে করেছি করেছি আমি পর;
তোমার পিংক আভা উড়িয়ে উড়িয়ে মসৃণ ঘ্রীবায়-
অবশেষে জেনে গেছি অনিত্যই পরম সত্য এই ইহ জীবনে,
তারায় তারায় ছড়িয়ে পড়েছে তুমি শুধু তোমার নাগরিক ধূমধামে।
তোমার শহরে এখন যখন যাই- জাগে না কোনো স্মৃতিগাঁথা,
কি চমৎকার সাম্প্রতিক হয়ে মুন্ডুবইয়ে খুঁজি- তুমি আমি কথা;
মনুষ্য জন্ম এমন ভেবে প্রজন্মকে শুনায় জীবনের বাখান,
দুষ্টু-মিষ্টি-বখাটে হয়ে ওরা তবলা বাজায় – কাঁটেনা নৃত্যের তান।
……………………….
০৭.১১.২০১৫