ভাষাতাত্ত্বিক রবীন্দ্রনাথ

1463400756192বাংলাদেশে ভাষাতাত্ত্বিক রবীন্দ্রনাথ নিয়ে প্রথম একাডেমিক আলোচনা করেন ড.কাজী দীন মুহাম্মদ। এ নামে তাঁর এক দীর্ঘ প্রবন্ধে, ভাষাতত্ত্ব(১৯৭১) গ্রন্থে। সময় গড়িয়েছে অনেক, বাংলাদেশে রবীন্দ্র চর্চার ব্যাপ্তি ঘটেছে। সম্প্রতি তিনটি পরিশ্রমী কাজ হাতে পেলাম। দু’টি পিএইচডি গবেষণা, একটি রবীন্দ্র গ্রন্থনা- বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের।
আগরতলা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের রবীন্দ্র অধ্যাপক ড. সিরাজুদ্দীন আমেদ এর বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৪সালে, কলকাতা থেকে। পরিমার্জত নবযুগ সংস্করণ ২০১৫, ঢাকা থেকে।
দ্বিতীয় টি মোহাম্মদ আজমের। বাংলা ভাষার উপনিবেশায়ন ও রবীন্দ্রনাথ (আদর্শ ২০১৪)।যদিও লেখক কৃতজ্ঞতাপত্রে জানিয়েছেন – থিসিসের শিরোনাম ছিল: উপনিবেশ আমলে লেখ্য-বাংলার রূপ ও রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষাচিন্তা। অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা বিভাগ থেকে করা গবেষণা বলে বইটির প্রতি আকর্ষণ বেশী ছিলো। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে ড.আনিসুজ্জামানেরও দুটো মূল্যায়নধর্মী গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর রবীন্দ্র মূল্যায়নে রবীন্দ্র ব্যাখ্যা- অসংগতি’র একটি চমৎকার সূত্রনির্ণয় পাঠককে আলোড়িত করেছিলো সে সময়ে। মোহাম্মদ আজমের গবেষণায় বাংলায় উপনিবেশায়ন, তার প্রক্রিয়া ও বাংলা ভাষা, বাংলা গদ্যে এর প্রভাব, এসময়ে রবীন্দ্রনাথের ভাষাচিন্তা,সূত্রায়ন ও প্রণালী পদ্ধতি, বাংলাভাষা ধারা ও রবীন্দ্রনাথ, বাংলা ভাষার প্রায়গিক দিকগুলোতে রবীন্দ্র চিন্তার উপযোগিতা নিয়ে পুরো প্রসংগটির উপর আলোচনা হয়েছে।
বইটি বর্ণনাবহুল তবে উপভোগ্য। ৫১২পৃষ্ঠার বিশাল বইটি পড়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন রয়েছে। এবং বিষয়িটও বিশিষ্ট পাঠকদের জন্য। বাংলা ভাষার স্বাতন্ত্র্যিক অনুধ্যানে এ প্রসংগটি আরো চর্চার প্রয়োজন রয়েছে। বাঙালির ভাষাপ্রীতির বুদ্ধিবিত্তিক আয়োজন চাই, আবেগের প্রাবল্য থেকে।
……………
ম উ জ
১৬.০৫.১৬

কবিতার নতুন পলি: সবুজের তপস্যা

  • মাঈন উদ্দিন জাহেদ

ঋগবেদের ঋষির মতো যে কবি তত্ত্বজ্ঞানি কিংবা ‘ঙাপ্পি’র ঘ্রাণ খুঁজে যে কবি জীবনসন্ধানী, বা নিমগ্ন নার্সিসাস না হয়েও নিজেকে ভাবতে পারনে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অবতার, তিনি- কবি সবুজ তাপস। এ সমন্বয় তাকে হৃদ্য করেছে। আপতঃ সবুজ তাপসকে আত্মমগ্ন নার্সিসাস মনে হয়। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ নিজ নামইে প্রকাশ করেছেন এটি। তাহলে কী কবি গ্রীক পুরাণ নিয়ে আবারও হাজির হলেন বঙ্গজ হয়ে। কারণ তিনি যখন উচ্চারণ করেন: 

‘আমি নার্সিসাস নই, নিমগ্ন ঋতিক

তখন প্রশ্ন জাগে এ নার্সিসাস উত্থানের পেছনে কী কোনো দর্শন আছে? আছে কী কবি ও কবিতাকে অভেদ্য বাঁক। আপাতঃ আমরা কবি ও কাব্যে তাই হতে দেখছি। 

সবুজ তাপস: প্রথম প্রকাশ ১৪২৯ মাঘ: ২০১৫ ফেব্রুয়ারি, রচনাকাল: ২০০১-২০১৪। কবতিা সংখ্যা: সত্তর। স্বত্ব: সবুজ তাপস। প্রচ্ছদ: নর্ঝির নৈঃশব্দ। অঙ্কন:তিলোত্তমা তিওলী ও গোঁসাই পাহলভী। প্রকাশক: প্রত্যালীঢ়, রাঁদভিু উঠান, আলো-১০১ রহমানি প্যালসে, আসকারাবাদ, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম: ৪০০০, বাংলাদেশ। মূল্য: ১৫০ টাকা।

কবিতার রাজ্যে সবুজ তাপস যে ধ্যানটি উপস্থাপন করেছেন, তা কাব্যগ্রন্থরে ফ্ল্যাপে, আশির অন্যতম কবি হাফজি রশদি খান উন্মোচন করেছেন। দৃষ্টান্তবাদী কবতিা। তুলনা-উপমা ও দৃষ্টান্তরে ফারাক কোথায়? কিংবা প্রায়োগিক র্পাথক্য কোথায় তা জানতে হয়তো তাদরে কাব্য আন্দোলনরে গদ্যযাত্রায় দেখতে হবে। কিছু তথ্য পাওয়া যায় ঢেউ, পঙ্খবাস, চেরাগিআড্ডা। কিন্তু পাঠকের সামনে থাকে শুধু কবিতা। যা কিছুই কবি উচ্চকণ্ঠে বলুক, চিরকাল কবির ভাষ্য হয়ে দাঁড়াতে হয় কবিতাকে। সবুজ তাপসের কবিতায় ‘সবুজ তাপস’ নাম দেয়া কাব্যগ্রন্থরে এ কৈফিয়ত কিছুটা বিপরীত ঠেকেছে কবি তাপস ও হাফজি রশদি খান এর বক্তব্যে। 
চার খণ্ডে বিভাজিত কবিতা ‘সবুজ তাপস’। কবি ক’ খণ্ডে বিভাজিত বিধাতা জানেন কিংবা জানেন তার পরম নিকটজন। আপতঃ আমরা দেখি–বিখণ্ড–ভূখণ্ড, বাঁচনভঙ্গি, সালফিউরিক আবেগ, পাতার গান। কবি এজাজ ইউসুফী ‘সবুজ তাপস’ এর ভূমিকায় উদ্ধার করতে চেয়েছেন কবি ও কাব্যকে। এ আন্তরকি প্রয়াস অনুজদের প্রেরণার হয়ে থাকবে।
সবুজ তার কবিতায় কাম-প্রেম-জীবনকে যাপন করে র্দাশনকিতায়। এ র্দশন আক্রান্ত নয়। জীবনের চলতি পথে সে জুনিপণ্ডিত। এক ধরনের তাচ্ছল্যি তার শৈলী। কথা-সংলাপ-প্রেম-কাম-তত্ত্ব সবকছিু তার তুড়ির ওপর চলে। যাপতি জীবনে শুনশান মধ্যবত্তি নয় সে। সে কবি, যন্ত্রণাকে অভ্যস্থ করে শব্দরে তুড়ি বাজিয়ে কবিতার র্স্বণরেখা এঁকে যেতে চায়। অসামান্য হয়ে তার সমস্ত মুদ্রা চিন্হিত হয়ে যায় তার ‘সামান্য’ শিরোনামের কবিতাটি।

র্গব নাই, র্গবপাতও
তবু সামান্য শেকলে গাঁথা!

তোমার সামনে দাঁড়ানো আমি, আংরাখা

তোমার ভেতরে ছিলাম শঙ্খের শাখা…

যখন তুমি

আগ্রাবাদ হতে চৌমুহনী যাও,

আমি পদ্মা হতে মেঘনায়

মাছের সাথে মিশে যাই ! 

এখন আর

নন্দন কানন হবার

ইচ্ছা নাই ! 

( সামান্য: সবুজ তাপস: পৃষ্ঠা: ২৩) 

কবিতাটি খুব ছোট, ভাব আরও ছোট কন্তিু সবুজের মুদ্রা উঠপ এসেছে এক এক করে। ব্যক্তি কবির অহংকার নেই, না থাকাটাই মহত্তের লক্ষণ; কিন্তু একেবারেই কী নেই? না থাকলে কী তিনি কবি হতে পারতেন? এক ধরনের অহম ব্যক্তি চারিত্রে আছে বলেই তিনি অন্য কিছু না হয়ে কবি। র্নাসিসস মিথস্কিয়া না থাকলে কী সৃজনশীল মানুষ হওয়া যায়? না তার মাঝে এর উত্তরণরে মহৎ অভিপ্রায় আছে বলে তিনি অহংকে অবহলো করেছেন। কিন্তু র্গবপাত? সবুজ এ লৈংগিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে চান? না, তাহলে ঋতুর্পনের মতো কি হরমন গ্রহণ করতেন? না, তাহলে? এখানে তার প্রধান চারিত্রটি পষ্ট হয়ে ওঠে: তাচ্ছিল্য ।
কথ্য ঢঙে, কথার ফুলঝুরিতে তাপস আত্মস্ত করছেে এ তাচ্ছল্যি। জীবনে, যাপনে, কামে, প্রেম, দ্রোহে সব কিছুতে তার মধ্যবত্তি শুনশান নৈতিকতা নেই। পাঠক জানে, সে পুরুষ, তাও সে বলেছে র্গবপাত নেই। এ অপ্রয়োজন কথনে ধরা পড়ে তার স্বভাব-স্বদভাব। ‘তবু সামান্য শেকলে গাঁথা’ কীসে? এসব শব্দকারগিররা জীবনে যেমন শৃঙ্খলাহীন তার ও শেকলে গাঁথা? হ্যাঁ, বোধের অধকি বোধের মাঝে যাপন করে বলে কাব্যরে শিল্পীরা হৃদয়গ্রন্থনাকে উন্মোচন করেন কারণে অকারণে। সামান্য তিলের জন্য শমরখন্দ ও বোখারাও বিলিয়ে দিতে পারেন। তাই চিরকাল কবি-শিল্পীরা জীবনে দারদ্রিকে যাপন করেছেন হৃদয়রে উষ্ণতায়। তাচ্ছল্যিরে বরাভয়ে অস্তিত্বের কবি- আংরাখার অবয়বে, কিন্তু ভাবের কবি মিশে গেছেন পদ্মা- মেঘনা-যমুনার জলে। এখানে যাপনের বাস্তবতা ও মননের বাস্তবতার ব্যাপ্তি ও পরিধি চিন্হিত হয়েছে রুঢ় বাস্তবতা ও কবির বাস্তবতার সংশ্লেষে। তবে এ কবিতায়, ‘মাছের সাথে মিশে যাই’ এ পংক্তির প্রয়োজন ছিলো না। ‘আমি পদ্মা হতে মেঘনায়’ এর মাঝে উপলব্দরি সমস্ততা পাঠককে পৌঁছে দেয় কবির ভাবসত্যে।

‘এখন আর / নন্দন কানন হবার/ ইচ্ছা নাই।’ পংক্তির মাঝে গীতকিবতিার মতো পেলবতা নেই সত্য কিন্তু রুক্ষ বাস্তবতাকে উপস্থাপনরে কামারিক তারুণ্য আছে।এমন জ্বলজলে সত্য উচ্চারণরে মাঝে একবিংশতাব্দির শূন্য দশকে অন্যতম কবি সবুজ তাপস হয়ে ওঠে জুনিপণ্ডিত। তার কবতিায় অনেক প্রসঙ্গই আছে। তবে আছে এক ছফার মতো এক ধরনের ক্ষেপাটে সাহস, সুলতানরে মতো এক ধরনরে নিজস্বতা, বোদলেয়রের মতো এক ধরনরে ক্লেদকুসুম র্চচার প্রবণতা। তার বাঁশির প্রতি মুগ্ধতা, জীবনের জঙ্গম যাত্রায় শিল্পকে ছেঁকে নেয়ার মন, চৈতন্যে এক ধরনের বাউলি প্রজ্ঞা ফুটে ওঠে কবিতার পংক্তিতে পংক্তিতে।
আধুনিক মানুষ হিসেবে সাহিত্য-সমাজ-রাজনীতি-র্অথনীতি সব ছুঁয়েও কবি যখন শব্দের ভাব ও সুরে শিল্পের সুষমা নির্মানে প্রত্যয়ি হান, তখন নিরাশ না হয়ে পারে না। জগৎময় যেন এক নৈরাজ্যের ঘরকন্যা। একজন র্হাদ্য মানুষ হিসেবে চারদিক র্স্বাথের দ্বন্দ্বে, এমন কী এর প্রভাব আচমতি করেছে শিল্প-সাহত্যিকেও যখন। মানবিকতার সবচেয়ে নির্মম র্পযায় অতক্রিম করছে এ সময় যখন। কেউ কারো ভালো সহ্য করতে পারছে না।    
সবুজও দোটানায় পড়ে যায়:

তিনচোখে যখনই দেখি
জৈবনকি জটিলতা, তড়পাই রাগে

ভাল্লাগে না ভবের হাটরে বেচাকেনা

আত্মহত্যা করবার ইচ্ছা জাগে! ( দোটানা: ) 

এছাড়া নাগরিক জটিলতা, ফ্রয়েডিয়ো বাসনা, কবিতযশ, আত্মকাম, ইতিহাসের অনুসঙ্গ মিলিয়ে সবুজ তাপস সালফিউরিক আবেগে, কিছু কিছু ধাতব পদ্যে কিছু শরীরঘন পংক্ততিে পাঠক ঠোঁটে উষ্ণতা এনে দেয়। কিছু শুকনো পাতাও আছে পদ্যবাগানরে ডালে। র্স্বাথপরের মতো বলতে হয়: তথাস্ত… তথাস্তু… কবির না হোক, কবতিার জয় হোক। 

সত্তরটি কবিতায় সবুজ ছুঁয়েছে বাঙালির ইতিহাস, ঐতহ্যি, রাজনীতি,র্ধম, সাধনা, আধুনকি মানুষরে দ্বন্দ্ব, কাম, প্রেম র্সবােপরি জীবনকে। যে জীবনকে সে যাপন করে মননে, তার প্রতিরূপ হয়ে কবিতায় উঠে এসেছে গৌরবে:

 কেন সংবিধানে বাজছে ‘বিসমিল্লার’র সানাই

 কেন অভিধানে ‘শেখ মুজিব’ এর র্অথ বাংলাদশে নাই;

পাঠক কবিতার পংক্তিতে পংক্তিতে নতুন উপলব্দি ও স্বাতান্ত্রকি মনোচিন্হের ভাব দেখতে পাবেন তার কাব্যদৃষ্টিতে। কবিসুলভ কল্পনা ও উপমিত স্বভাবরে সাথে তার র্দশনগত ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পষ্ট হয় তার শৈল্পিক পংক্তিগুলোতে। সবুজ তাপস পড়ে অন্তত কেউ প্রতারতি হবনে না অনুভূতরি সততায়, উপলব্ধির গাঢ়তায়, চৈতন্যরে সৃজনশীল বেদনায়। তাই তো দুঃসাহসী উচ্চারণ:
আমার কোনো লিঙ্গ নাই, কেবল মৃত্যুহীন
লতিয়ে যাই। (বায়োডাটা) 

এমনি নতুন ভাবভাষ্যে সবুজ তাপস বাংলা কবিতায় এনেছেন নতুন পলি।এ ধারায় আগাম পৃথিবীতে রচিত হবে নব শষ্য- বাংলা কবতিার, আধুনকি উত্তরাধুনকি কাব্যযাত্রার। শুভ হোক সবুজের যাত্রা, শুভ হোক তাপসের তপস্যা। 
……………………………

২৮.০২.১৬

মাঈন উদ্দিন জাহেদ এর একগুচ্ছ কবিতা

image

আল মাহমুদ
………………..

রবিবাবুকে অতিক্রমনের ইচ্ছে ছিলো অন্তত: বয়সে;
তিনি অতিক্রম করে গেলেন;
সফেদ চুল ও দাড়ির সাথে ভ্রু যুগলও শাদা হয়ে গেছে-
তবু লিখে যান সাহসের সমাচার।
কথকতা ও কবিতার আড়ালে নাদিরার চুলগুলো এলোমেলো উড়ে,
অতিক্রমনের নেশায় সাজান যিনি অদেখা ভুবনের তশতরী।
ধূপের আড়াল নয়, নয় লোবানের ঘ্রাণ-
কবিতায় ভাসান তিনি আাত্মার তুলতুলে কারুময় গালিচা;
এমন এক অনাঘ্রাণ জীবনের অমৃত সাজিয়ে বসে আছেন শব্দের সুরম্য রাজপ্রাসাদে…
গল্পের দিন শেষ, এখন গালগল্পের পালা
পালাবদল দেখে দেখে গেয়ে যান তুমি কার শালা?
……………
০৪.০৫.২০১৬

চাপাতি
…………

নিত্যদিন আক্রান্ত ভয়ের সংস্কৃতিতে
নিত্যদিন ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে।
সেলফিতে সেলফিময় আমাদের মুখশ্রী
শ্রী নেয় শুধু মনোচৈতন্যে।
ভয় আমাদের জামা, ভয় আমাদের পাজামা
ভয় আমাদের নেংটি, ভয়ে ভয়ময় আমি-তুমি।
কি হবে ভেবে ভেবে?
যখন মুণ্ডুই থাকবে না চাপাতির কোপে।
………..
২৬.০৪.২০১৬

তোমার বাঁশী বাজুক!!
…………………………….
হে ক্ষমতা! তুমি অবিনশ্বর হও;
তবু আমাদের রেহায় দাও-
চাপাতির কোপ, বুলেট ও ব্যালেটের ধূম্রজাল থেকে।
গুপ্তহত্যা, গুম, চোখ উপড়িয়ে ক্রসফায়ার থেকে।
আমার ট্যাক্সের টাকায় কেনা বুলেট যখন আমাকে বিধে
হে ক্ষমতা! তখন আমার বলার থাকে না কিছুই;
বেঁচে থাকার আর্তনাদ ছাড়া আর কোনো দাবী নেই।
ভোটাধীকার আমি চাই না;
দণ্ডমুন্ডের খোয়াব উবে গেছে বহু আগে;
আমি নির্বীয নপুংসক হয়েগেছি সিটি কর্পোরেশন কল্যানে;
জন্মনিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মীরা বহু আগেই আমাকে কিছু টাকা গুজে দিয়ে ইন্জেকশন পুশ করেছে ;
আমি বহু আগেই স্বপ্নকে বেচেছি মুড়ি মুড়কি দামে।
এখন শুধু আমি বাঁচতে চাই;
খোকা ঘুমিয়েছে, পাড়া জুড়িয়েছে,
বর্গী আসলে আসুক;
আমার প্রানটা না গেলেই হয়-
হে ক্ষমতা! তোমার বাঁশী বাজুক! তোমার বাঁশী বাজুক!!
…………
২৭.০৪.২০১৬

বিষ্টি
……..

রাতগুলো যুবতী হলে আমাদের সুখদ পুরুষ নিদ্রাহীনতায় ভোগে ;
বালখিল্যের সন্ধ্যা গড়িয়ে গড়িয়ে রাঙা মেঘকে ডাকে চুম্বনের তৃষায়;
মেঘবালিকা আজন্ম চতুর জোনাকি – ফড়িং এর সাথে সদভাব পূর্বজন্মের।
কেবল ঘুরে ঘুরে স্বপ্ন জাগায় বালক আকাশে,
ও মেঘ বিষ্টি হয়ে আসো! বৈশাখী ঝড়ে আমি তোমাকে আলিঙ্গনে জড়াবো।
আমি বিষ্টির কাছে জীবনের হিসেব চুকাবো।
…………………..
২৩ এপ্রিল ‘১৬
১১.৫৪

তাসবি
………..
স্বপ্নাদ্র মাদুলি পরে তাসবি গুনি তোমার,
ধ্যানের পরিক্রমে ছুঁতে ছুঁতেই সরে যাচ্ছো তুমি,
তাসবি গুনছি আর ঘুরছি, ধ্যানেই তাওয়াফ;
ধ্যানেই তোমাকে ছুঁতে চাওয়া
চারদিকে প্রবল বাঁধা, লাজওয়াব।
কাঠের দানাগুলো ঘুরতে থাকে
হয়ে যায় মাঝে মাঝে অদৃশ;
কোন এক যাদু বাস্তবতায় এক একটি নক্ষত্র হয়ে
আমাকে ঘুরাতে থাকে কস্ মো বাস্তবে ;
চারদিক মায়া ঝিম, চারদিক জিকির জিকির।
এ কোন কা’বা?
শুধু সিজদারত গ্রহ-নক্ষত্র আর অন্য সব আলোর পিদিম;
মায়া বাস্তব, ছায়া বাস্তব, তুমি বাস্তবে সবায় !
অলৌকিক মায়া মন্ত্রে শুধু জিকির শুনি আমার সিনায়।
………………..
৩১.০৩.২০১৬

নীরবতা
………….
তুমি কি জীবনটা শাদাকালো-
তুমি কি আজীবন ডাগর ডাগর
চোখে, দেখেগেলে আমার ভালো-
ভাষায় কোনো কিছু না বলে
শুধু দিয়ে দিয়ে দিয়ে গেলে;
জীবনটাতে নীরবতায়
হৃদয়বাদ্য বেজে গেলে।
গান গেয়ে যাও গুণগুণিয়ে
সব যন্ত্রণা সয়ে গিয়ে
বোঝা কী কমাও মনে-প্রানে ?
নীরবে মান ভুলে গিয়ে?
হে নীরবতা! কে বোঝে তোমার ভার?
গভীরতা! রাত কী বোজে তোমার কারবার?
………………….
১৭.০৩.২০১৬

সময়ের রুদ্র নায়ক
……………………….
সুসময়ের বিপ্লবীদের উৎপাত বেড়েছে,
জেগে থাকো মহাকাল।
যমুনার কালো জলে ফোরাতের ছায়া।
হায় কারবালা!
বিপ্লব লিখবে ত্যাগের ইতিহাস-
যে আনবে সুন্দরের অবিমিশ্র অনাবিল ভোর।
আমি তার গান শুনতে চাই! তোমার গিটারে।
জাগো সময়ের রুদ্র নায়ক, জাগো!
…………………
২১.০৪.২০১৬

প্রতি কবিতা
……………….
নিজের দ্রোহের ইতিহাসকে কেউ কেউ অস্বীকার করে আজকাল বিপ্লবী হয়ে যায়;
হোমোর আশির্বাদে এশিয়া কবিতা উৎসবে কবিতা পড়ে নিজেদের কবি ভেবে যায়;
নিজের মতই চুড়ান্ত সত্য ভেবে যারা আত্মপ্রসাদে ভুগে
সত্যের কাছাকাছি নয় বরং নিজেকে ক্রমান্নয়ে করে তোলে তারা স্বৈরভূত;
যাপনের পথে বোধকে আবিষ্কার করতে করতে যারা সমবেত সবার কথা ভেবে লাগাম টেনে ছিলো যাপনে,
তারাতো অন্তত: বিবেকের কাছে সৎ থেকেছে হে মহাকাল!
শিল্পের আড়ালে যারা ছদ্মবেশী লম্পট ছিলো তাদের চেয়ে।
তবে কেনো এতো তুলসী তলার নৃত্য?
আশির দশক বাল ছিঁড়েছে কাব্যে,
বোধের কাছে লিখা আছে সব-
ইতিহাস নিয়ে যখন কেউ লিখবে,
প্রতিবিপ্লবীরা তখন খুউব চটবে কিংবা চাটবে।
…………………
২০.০৪.২০১৬

কুশল
……….
কেমন আছো শুভ্রা !
তোমার শুভ্র আভায় ভরে উঠতো আমাদের জেগে ওঠা ভোরের দৃশ্যগুচ্ছ;
সম্ভাষণের স্নিগ্ধতায় ছড়িয়ে দিতে রাঙা পরীর ডানা;
যে ডানার আলপনার কারুর মোহে কেটে যেতো আমাদের পুরুষ পৃথিবীর মধ্যদুপুর।
সন্ধ্যা হতে হতে তোমার কিছুটা ঘ্রাণ রয়ে যেতো আমাদের প্রানের তসতরিতে।
মুগ্ধতার পংক্তি গুলো কতদিন শুনতে পাই না!
আহা! তুমি এলে!
রাতগুলো হয়তো আর কাঁদবে না-
তোমার গড়াগড়ির মুদ্রাগুলো তার ভাঁজ করে রাখার কষ্টে।
তোমার পংক্তির ভাঁজে শিউলির ঘ্রাণে আবার প্রাণিত হবো,
এসো প্রিয়ভাষী, এসো প্রানোষ্ঠ বোশেখে।
……………….
৭এপ্রিল’১৬

ভেদ
…….
যখন জলজ সত্য ন্যায় সত্য জীবন সত্য এক
তোমার কাছে আমি সত্য-তুমি সত্য বাড়ছে শুধু ক্ষেদ-
করে কি না করে চলছি শুধু সময় কে উদ্ যাপন;
মহাকালের দণ্ড ভোগে না পাই যেনো ভেদ।
……………….
৪ এপ্রিল’১৬

নিখিলেশ! কেমন আছো?

Y 2014 (1052)

নিখিলেশ! কেমন আছো? মনে পড়ে সব কিছু।

সবুজে আড্ডা- বাঙলা একাডেমীর বটমূল
বকুলতলা-দর্শন চত্বর কিংবা রমনার ঘনঘাসে পায়ে পায়ে হাটা।
মনে পড়ে মলচত্বর- হাকিম চত্বর কিংবা ফুলাররোড ধরে হেঁটে চলা।
আমাদের নীলিমা সঙ্গ-প্রসঙ্গ হলেই জুড়ে দেয়‘নিখিলেশপ্যারিসে-মইদুল ঢাকাতে…’
আমি শুধু বোবা হয়ে থাকি।
আমার নির্লিপ্ত চোখ ওদের ভাবায়`ও বেটা এমন নির্মোহ থাকে কীভাবে?
ওরা কী জানে ক্ষরণের যন্ত্রণা?
আমার দেখা না দেখার কষ্টগুলো পঁই পঁই করে কীভাবে লতিয়ে উঠছে স্মৃতিতে ?
কেমন আছো শিউলীতলা?
লালসুরকীর চাতালে কত শিশির জমা হয়েছে তোমার?
কত দিন সরদার ফজলুল করিমের ক্লাস করার মজাই পাইনা-
নিজেকে সক্রেটিস কিংবা প্লেটো ভাববার বোধ
ক’জন তৈরী করে দিতে পারে?
যারা পারে- তাদের পাই না?
কেমন আছো শিমুল? তোমার রক্তজবা হাসি
ক’জন সামলে নিতে পারে দুরন্ত যৌবনে!
বটগাছের ঝুল ধরে কতনাদোল খেয়েছি-
ইচ্ছে হোতো দোল হোক জীবনেও।
বটতলা স্বাক্ষী- স্বাক্ষী দাদু কিংবা ফুলতোলা শিউলীতল।
আমি এখনও খুঁজি আমাদের বকুল সন্ধ্যা-রিমঝিম দুপুর
কিংবা কুয়াশা সকাল।
মনে পড়ে গোলাপ! মনে পড়ে সব কিছু?
রিক্সার হুট ফেলে দুরন্ত বাতাস খাওয়া?

মুঠোয় মুঠোয় মুদ্রার শ্রাদ্ধ করে কতদূর আনন্দে লুঠেছি আনমনে।
এখন সময় গিলে খাচ্ছে আমাদের।
সময়কে ধারণ করে প্রতিদিন ইতিহাসও গিলে খাচ্ছে আমাদের।
একটি অন্তরগত ক্ষরণ নিয়ে আমাদের পথ চলা।
বিন্দু বিন্দু বোধ-নির্বোধ করে দিয়ে
আমাদের নিয়ে যাচ্ছে অনৈতিহাসেরগহ্বরে…
কেমন আছো সময়? কেমন আছো রাঙা বিকেল?
সব কিছু সন্ধ্যার দিকে যায়? যায় না।
যায় না বলে আমরা সবাই পথ করে নেই পথে পথে…
ঝিঁঝিঁ মাখা পথ আমাদেরও তাড়িত করে স্মৃতির চাতালে
অনৈতিহাসের গহ্বরে…।

সেপ্টেম্বর সিরিজ: মাঈন উদ্দিন জাহেদ

sm-sultan-09

 সেপ্টেম্বর ছুঁয়েছে যাকে

সেপ্টেম্বর ছুঁয়েছে যাকে হৃদয় ছিঁড়েছে তার,
গীন্সবার্গ হেঁটে যায় হৃদয়ের পথে;
কুয়াকাটায় সূর্য ওঠে,সূর্য ডুবে মনে
জীবনের আছে বুঝি নানা রূপ মানে।
শিমূলেরা গান গায় কার্তিক সন্ধ্যায়,
সেপ্টেম্বর ছুঁয়ে যায়, ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় ;
গীন্সবার্গ হেঁটে হেঁটে স্বপ্নের ভিড়ে-
পায়ে পায়ে ছড়ায় জীবন;
জীবনের নানা রঙ, রঙ বেরঙ মন।

 সেপ্টেম্বরের মেঘরৌদ্র
সেপ্টেম্বরের আকাশ মেঘলা হলে
তাকে কাদ্ম্বরী ডাকলে মন্দ হয়না
তবে যে দ্বন্দ্ব হয়;
রবীন্দ্রনাথ তেড়ে আসতে পারন।
তাঁর গোপন চিঠি ফাঁস করে দেবো বলে
কবিতার ক্লাস থেকে বের করে দেন।
গদ্যের বারান্দায় বড়বেশি বেমানান হবো;
তাই তোমাকে ইরা ডাকবো।
তোমাকে নিরাও ডাক তে পারি-
ব্যঞ্জনবর্ণের চমৎকার সমন্বয় এতে;
কিন্তু ঐযে সুনীল নিরা নিরা বলে চিৎকার করে-
ওতো পুরনোপ্রেম-পঞ্চাশের নায়িকা;
তোমাকে তাই ইরা ডাকা।
তুমিতো কবিতা স্বপ্ন মগ্ন স্বপ্নীল চাওয়া-
সারগামের চ মৎকার আবৃত্তি হওয়া।
ইরা!স্বর-ব্যঞ্জনেরপ্রেম-স্বপ্নীল হওয়া
এবং তুমি সেপ্টেম্বরের মেঘরৌদ্র
এবং তুমি ইরা ইরা ইরা

সেপ্টেম্বরঃ আগুনের বোন তুমি, ফাগুনের বোন

সেপ্টেম্বর আসে যায় সেপ্টেম্বরতো আগুন
এই সেপ্টেম্বরেই দেখেছি তোমার ফাগুন…
তুমিতো আগুন নও তুমিতো ফাগুন
জয় শ্রী …
জয় গুণ …
তোমার ছুয়েঁচছি আমি অহংকার বাদামী;
তোমার ছোঁবনা আমি যাপনের ভাঁড়ামী;
পাশকাটি পাশফিরি- পাশবিক উল্লাসে;
রাত যায় জেগে জেগে-বোধের বিন্যাসে।
জয় শ্রী…
জয় গুণ…
তোমাকে সেলাম কুটুম…।
জয় গুণ…
জয় ফাগুন…
বোধ আর ক্রোধ আমার তোমার মাঝে বসত গড়েছে
নিয়ত জ্বলে ওঠে তুষের আগুন;
সেপ্টেম্বর আসে যায় সেপ্টেম্বরতো আগুন।

সেপ্টেম্বর মানে বাউল হয়ে যাওয়া

ফাগুন এলে তাকে অন্য রকম সেপ্টেম্বর মনে হয়
রোদগুলো গুছানো মেঘের মতো কিশোরীর ফ্রক হয়ে খেলা করে,
চৈতন্য জুড়ে শুধু পাখা ঝাপটায় শাদা শাদা বক;
মিঠেলা রোদ আর ঝিলের জলে স্নান সারে সেপ্টেম্বর।

সেপ্টেম্বর মানে ভেতরে ভেতরে আউল-বাউল হয়ে যাওয়া,
সেপ্টেম্বর মানে উপরে সুনসান গুছানো ফুলবাবু;
সেপ্টেম্বর মানে মিঠেলা রোদের হাসি ঝিলের জলে পাখিদের স্নান
কিংবা ইউক্যালিপ্টাস শিশির থেকে তোমার ঘ্রাণ নেওয়া
এবং ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া… ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া…
সেপ্টেম্বর মানে ফাগুন লাগা অন্য রকম বাউল হয়ে যাওয়া।

সেপ্টেম্বরের ইলশে রোদ ঘিয়ে বিষ্টি
এবং হলুদ রৌদ্রের পালানো দেখে থেমে গেলে
ঘিয়ে রোদ ইলশে বিশটির সাথে চুপচাপ ঝুপঝাপ;
তরুণী ভিজছে সিঁড়িতে এবং একজন ভিতরে…
সেপ্টেম্বরের ইউক্যালিপ্টাস ভিজছে
ফতুয়া ভাঁজ করছে একজন;
আড়চোখে ইউক্যালিপ্টাস দেখছে;
শিশির কুড়াচ্ছে একজন
এবং তরুণী ভিজছে…
মুখটিপে হাসছে ইউক্যালিপ্টাস, তরুণী কিংবা বিষ্টি।

আশলে সেপ্টেম্বরের রৌদ্র পালাচ্ছে বিষ্টি হচ্ছে
আশলে সেপ্টেম্বরের বিষ্টি হচ্ছে ইউক্যালিপ্টাস ভিজছে
আশলে ফতুয়া-উড়ণীর ভাঁজের আড়ালে কাঁপছে প্রাণ
এবং তুমুলভাবে ভিজতে ভিজতে হয়ে ওঠে
ইলশে রোদ ঘিয়ে বিষ্টি’র ঝুপঝাপ-চুপচাপ পটভূমি।

মাঈন উদ্দিন জাহেদ এর একগুচ্ছ কবিতা

গোলাপের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

দেখো,আমি বাউণ্ডুলে হতে চাইনি;
অথচ তোমার জন্য আমার বাউল হয়ে যাওয়ার কথা।
তোমার গোলাপ গ্রীবা ছুঁয়ে ক্ষরণ হয়ে ছিলো বেশ,
হাতে হাত রেখে নি:শব্দে পাড় করেছি দীর্ঘ সময় ও পথ।
আমাদের সমস্ত অনুভূতি বিকশিত হতো পাপড়ির নৃত্যে,
কথা হতো নীরবতার দীর্ঘল বয়ানের থরে থরে,
কিন্তু আমরা কেউ ইথারে ভাসায়নি দু:খ জাগানিয়া গান।
একদিন সাহিত্য আড্ডায় ধমক দিয়ে বলেছিলো মান্নান সৈয়দ –
এখন স্বভাব কবির যুগ নয়, স্বাভাবিক কবিতার কাল,
তোমাকে যেতে হবে বহু দূর, ধরো না কিন্তু অাউলা সুর।

আমি কবিতা ভালোবেশে জীবনকে করেছি বাস্তব,
এবং তোমার দীর্ঘ নীরবতা আমি সয়ে গেছি কি নিপূণ অভিনয়ে,
তোমাকে ছুঁয়ে গেছি চেতনায়, বাস্তবে না ছু্ঁয়ে ছুঁয়ে।
বহমান সময়ে শরীর থেকে জেগেছে দু’ দু’টি পালক
ওরা উড়ছে এখন- কি দারুণ হয়েগেছি বৃক্ষআবয়ব।
ডালে বসে পাখি, কত পাখি উড়ে এসে চঞ্চু ঠেকে বৃক্ষ শরীরে,
কী নিপূণ অনুভূতি পাখিদের ঠোট ছুঁয়ে ছুঁয়ে।
যাপনের পথে পথে সব কিছু কী শরীর ঘেষা?
শরীরের অধিক কিছু আছে হৃদয় ইতিহাসে;
আছে কিছু স্মৃতি, কিছু অনুভূতি,কিছু ভালোলাগা না লাগা,
গোলাপ! তোমার কাছে প্রথম পাঠ,সব কিছু একটু একটু শেখা।

জীবনের চলতি পথে দেখে যাওয়া একটু একটু সব,
দেখো তোমার বিরহে হইনি কবি নীরব।
ক্ষমা চাই গোলাপের কাছে, তোমাকে পেতে সইতে হতো
কিছু কাঁটার যন্ত্রণা,
ক্ষমা চাই, এখন তা আর আমি পেতে চাই না।
…………………….
০৪.০১.২০১৬

jahede

ফানা-১

তোমাকে ধারণ করেছি ঠোটে
তোমাকে ধারণ করেছি বুকে
তোমাকে ধারণ করেছি হৃদয়ে
তোমাকে ধারণ করেছি সত্তায়;
আর কতটুকু ধারণ করলে তুমি, আমি হবে?
কিংবা একান্ত আমি  হবো তোমার?
এমনই ফানা হতে চাই-
তোমাকে যদি না পাই?
আমার আসাইতো ব্যার্থ হবে;
মুসার মতো জ্বলে যেতে চাই:
ছাই হয়ে আশ্রয় নেবো

হয়তো কোনো প্রিয়ার সুরমায় ।

………………….
৩০.১১.২০১

তোমার শহরের গল্পগাঁথা 
সমস্ত গলি উপগলি পেরিয়ে একদিন পৌছে গিয়েছিলাম তোমার শহরে,
অথচ কতো অালস্যে আমি পার করেছি দিন দিন মুদ্রা ছুড়ে ছুড়ে।
কষ্টের বারান্দা দেখে যে শিউরে উঠতো আলু থালু ভাবে,
সে না কি মনে পেরিয়ে গেছি শ’ শ’ ছাপ্পান্নো মাইল পথে।
অথচ মাঝখানে কতো না ব্রেকাপ, জাগে মান অভিমানের চর,
সময় মানুষকে সত্য শেখায় যেমনি শেখায় অসময়,
তোমাকে নিত্য ভেবে অনিত্যকে করেছি করেছি আমি পর;
তোমার পিংক আভা উড়িয়ে উড়িয়ে মসৃণ ঘ্রীবায়-
অবশেষে জেনে গেছি অনিত্যই পরম সত্য এই ইহ জীবনে,
তারায় তারায় ছড়িয়ে পড়েছে তুমি শুধু তোমার নাগরিক ধূমধামে।
তোমার শহরে এখন যখন যাই- জাগে না কোনো স্মৃতিগাঁথা,
কি চমৎকার সাম্প্রতিক হয়ে মুন্ডুবইয়ে খুঁজি- তুমি আমি কথা;
মনুষ্য জন্ম এমন ভেবে প্রজন্মকে শুনায় জীবনের বাখান,
দুষ্টু-মিষ্টি-বখাটে হয়ে ওরা তবলা বাজায় – কাঁটেনা নৃত্যের তান।
……………………….
০৭.১১.২০১৫

অমিত লাবণ্য
এমন অসময়ে ঘুমোতে দেখে চেঁচালে, তুমি উঠলে না;
আলতো টোকা কপালে দিলে, তুমি নড়লে না;
অথচ তোমার মুখচিত্র দেখে বোঝা যায় জেগে আছো;
অথচ ইচ্ছে ছিলো টোকার অধিক আরো কিছু-
মুখোভূগোলের দ্বিখন্ডিত গোলাপ পাতাটি ছুঁয়ে
অথবা আলতো ছুঁয়ে কপোল, নাচের মুদ্রা তুলি দু’আঙ্গুলে।
অথচ দ্বিধার বারান্দা পেরিয়ে কম্পন দেখা হলো না আর;
কথাগুলো স্মৃতিতে ভাসাতে ভাসাতে খুঁজি ফিরি
নিজস্ব গ্রন্থগারের খুঁজে না পাওয়া গল্প উপন্যাসগুলো;
ফিরে না পাওয়া গল্পের পৃষ্ঠাগুলোতে,
বর্ণে বর্ণে স্পর্শ লেগে আছে তোমার আমার;
তোমাকে লাবণ্য করে, আমিতো অমিত;
দু’জন দু’কুলে গিয়ে স্মৃতি ও বর্ণে খুঁজি শেষের কবিতা।
বড্ডো শীত পড়ছে কবিতার খাতা ও শেয়ার সূচকে;
বইগুলো নাইবা ফেরত দিলে- ই-বুকের যুগে,
চ্যাটতো করতে পারো ভার্চুয়াল সুযোগে।
………………….
২১.১১.২০১৫

তমসার গান
মৃত্যু আমায় নিয়ে যায় ঘুমে, আনেক রাত্রি শেষে;
মৃত্যুর অধিক জিঘাংসার ক্ষুধা, একটু একটু এসে;
তোমাকে লোভাতুর করে ভাসাতে ভাসাতে,
মৃত্যুর অধিক দাম্ভিক হতে উল্লাসে উল্লাসে;
আমাকে নিয়ে যায় শেষে… শেষে… অবশেষে…
অনাস্বাদিত আঙুর বাগানে এসে, হেসে হেসে।
………………
২২.১১.২০১৫

আমি একটু ঘুমাবো
আমি একটু ঘুমাবো
ভীষণ ক্লান্ত এখন চোখেতে জীবন আবছা আবছা;
এতোটুকু বাকী নেই মানবিক সম্পর্কের আশা
কেটে দিচ্ছো যাপিত সম্প র্কের সূতো
তোমার জন্য আমার করা সমস্ত ইতিবৃত্ত মুছে দিয়ে
কী করে তুমি ভাবো আমিও কাঙাল হবো
তোমার তাচ্ছিল্লের আভা মেখে আমি হবো –
সাম্প্রতিক স্বপ্নের ফেরারি চন্দ্রীমা।
আমি ঘুমাবো
-তারপর আড়মোরা ভেঙে নতুন দিনের কথা ভাব্বো ;
য়ুরোপ!

স্পর্শ বাটন
এখন আর মুন্ডুবইয়ে তোমার ছবিগুলো লাইক দেওয়া হয় না,
আমার স্পশর্ ঐ বাটনে পৌঁছে যেতো তোমার অনুভূতি বাতর্ায়।
আজকাল এভাবে আর চলে না,কেনো জানি মনে হয়-
ইচ্ছের সম্মানটুকু খুয়ে যাচ্ছে এভাবে ;
তোমার চারপাশের পরিব্যপ্ত জনমন পবন ছুঁয়ে নিচ্ছে
আমার একান্ত স্পশর্গুলো – যেখানে আমি একা সার্বভৌম-
এমন জনগণমন করেদিতে পারি না আমি স্পশর্ের আনন্দটুকু-
যেটুকু আমার একান্ত গভীর গোপন।
কেউ জানুক বা না জানুক ! তুমিতো জানো-
ভালোবাসা চিরকাল চলেগেছে অবাণিজ্যের পথ ধরে হৃদয় ইতিহাসে;
তেমন পড়েছি আমি যাপনের গ্রন্থ খুলে, ক্ষরণের মোমবাতি জ্বেলে।
নেটিজেন হয়ে আরও একটি বাটন খুঁজছি একান্ত স্পর্শবার্তার।
………………….
১০.১১.২০১৫

স্মৃতিস্বত্বার গান
সময়গুলো থমকে গেছে স্মৃতির কাছে
স্মৃতিগুলো চমকে চমকে উথলে ওঠে;
তোমার জন্য খামখেয়ালি সময়গুলো বিষন্ন হয়
তোমার জন্য মধ্যদুপুর তাতানো পিঠে রৌদ্রময়,
সুখ সকালে মায়াবী শিশির হাতবুলানো যন্ত্রণাতে
তোমার স্মৃতি চমকে ওঠে , চমকে ওঠে।
রিক্সাহুডে শহুরে রোডে যন্ত্রণাময় অমরাবতী দিনগুলোতে
স্বপ্নশেষে নেতিয়ে পড়া তোমার আমার মানগুলোতে
এসে এসে জমতে থাকে, জমতে থাকে- অভিমানের শীষর্ কায়া;
সবই গেছে, গেছে সবই, আশলে কী ভেস্তে গেছে এসব মায়া?
এখন তুমি কেমন আছো ধল প্রহরে?
মানগুলো কী আগের মতো তোমায় কাঁদায়?
সময়গুলো থমকে গেছে স্মৃতির কাছে-
স্মৃতিগুলো মূতর্ হয়ে থমকে গেছে তোমার কাছে?
নেই, তুমি নেই, এই ভূবনে- অমাবশ্যা;
তবুও চাঁদ উঠেছে আকাশ নীলায় মধ্যযামে-
নেই,ক্ষতি নেই, মরাবাস্তব স্বপ্নধামে
যাই বয়ে যায় স্মৃতির এমন আকাশ নীলা।
১৯.১০.২০১৫

বসন্তের গান

কোকিল ডাকিছে আমাদের গাঁয়ে
তোদের গাঁয়ে কি শীত নামে?
যেই ছুটে যাই সুরের টানে-
অসুরের গীত, হয় বামে।
ভ্যাটের মিছিলে আপামর সব
লেঠেল ছুটায় আজ কারা ?
বঙ্গ জননীর গীত বন্দনা
লাঠি গুলি সব তাড়া…তাড়া…
পথে নেমেছে বঙ্গ সন্তান-
পথে শেষ হবে, পথের দাবী;
কোকিল ডাকিছে আমাদের গাঁয়ে-
বসন্তের গান কারা গাবি ?
আয় ! কারা গাবি? কারা গাবি?
……………………..
১৪ সেপ্টেম্বর-২০১৫

১৫ আগস্ট
ব্যাক্তি আমাকে ছোঁয় না, ছোঁয় না ইতিহাসের খেরোপাতা
চিরকাল অনৈতিহাসের হালখাতা হয়ে ছুঁতে চেয়েছি তোমার চিবুক।
ইজেলে এঁটে , ফ্রেমে তুলির আঁচড় হয়ে বোধের বাড়ি-
তুমিও তাড়াতাড়ি ঘোমটা আঁটো আমার আড়াআড়ি;
রহস্যের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আর হয় না দেখা আমার তোমার,
এ কেমন বেচইন মন, মুখচ্ছবির প্রেমে হয় না আঁকা তোমার
আমার বিরহ কাহিনীগাঁথার শেষ সংলাপও-
আগস্ট মানে অনিশেষ দুঃখ- তোমার আমারও।