পর্যটন

তুমি তো জানালায় না চিহ্ন এঁটে দিয়েছো-
অনেক দিন তোমার কোনো তথ্য জানিনা।

ইথারে যখন ভেসে আসতো এক একটি ছবি কিংবা গান

কি উজাড় করে দেখেছি সে সব, শুনেছি সে মায়ামন্ত্র মন্ত্রণা।

অথচ তোমার সুনসান গোছানো সংসারে , যেনো না হয় ছন্দ পতন,

বিড়ালের পা ফেলে নীরবে দূরে থাকি , না দিয়ে তোমাকে যন্ত্রণা ।  

হাওয়ায় হাসি খেলি , হাওয়ায় ভাসায় মুগ্ধতার ভেলা নৌকা 

কীভাবে টের পেলে আমার এ ইথার পযর্টন টোকা ।

তোমার কী জেগেছে কোনো ভুতুরে জ্ঞান ?

না কী তুমিও জেগো আছো প্রানহীন প্রান?

অথচ কাল রাত সারা রাত জেগেছি আমি,

বাম পাশে শুয়ে ছিলে মায়াহীনা তুমি।

২৫.০৭.২০১৫

  

লেভ তলস্তয়ের কসাক

  
লেভ তলস্তয়ের কসাক……………………….

অনেক দিন পর খুজে পেলাম বিশ্বসাহিত্যের অসাধারণ কথাশিল্পী লেভ তলস্তয়ের কসাক উপন্যাসটি।নানা কারনে এ লেখকের মুগ্ধ পাঠক আমি। তারই কথা ধার করা যায়-সৎভাবে বাঁচতে গেলে চাই প্রবল আকাঙ্কা, ত্রুটিবিচ্যুতি,বুঝতে পারার ক্ষমতা,ভুলভ্রান্তি; চাই শুরু করা, শুরু করে ছেড়ে দিতে পারা, ছেড়ে দিয়ে আবার শুরু করা, এবং আবার ছেড়ে দেওয়া,চিরকাল সংগ্রাম করা, রুখতে পারা।

কসাক (১৮৫৩-১৮৬৩)উপন্যাসে ককেসাসের প্রকৃতি ,সাহসী ও মুক্তিপ্রিয় জনগোষ্ঠীর এক মুগ্ধ বর্ণনায় চমৎকৃত হওয়া যায়। এটি অভিজাত যুবক দ্ মিত্রি ওলেনিন এর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।তলস্তয় এখানে বড় ভাই নিকোলাইয়ের সাথে এসেছিলেন যুদ্ধে নিজের সাহস পরীক্ষার জন্য।প্রায় তিন বছর কাটান, সামরিক অপারেশনেও অংশ নেন। এ স্থান ত্যাগের সময় তলস্তয় নিজের দিনলিপিতে লিখেছিলেনঃ আমি ককেসাসকে ভালোবাসতে শুরু করেছি… প্রবল এ ভালোবাসা বাস্তবিকই সুন্দর এ প্রদেশটি, যেখানে দুটি অতি পরস্পর বিরোধী বস্তুর – যুদ্ধ ও স্বাধীনতার এমন অদ্ভুত ও কাব্যময় সমন্বয় ঘটেছে।

কসাক উপন্যাস দিয়েই তলস্তয়ের লেখালেখির প্রথম দশক পর্ব চলে যায়।

এ উপন্যাস সম্পর্কে শিল্পতাত্ত্বীক রঁমা রঁলার মন্তব্য চুমবুকময়ঃ তাঁর সৃষ্ট লিরিকধর্মী উপন্যাসগুলোর মাঝে কসাক শ্রেষ্ঠ রচনা – এটি যেন ককেশীয় কাব্য।

লেভ তলস্তয়(১৮২৮-১৯১০) সম্পর্কে রুশ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কীর মূল্যায়ন ছিলো মুগ্ধতার। তিনি লিখেছেন- সারা জগতের, সমস্ত পৃথিবীর দৃষ্টি নিবদ্ধ তাঁর দিকে। চ,ভারত, আমেরিকা- সব জায়গা থেকে জীবন্ত, আবেগস্পন্দিত সূত্র প্রসারিত হয়েছে তাঁর প্রতি; তাঁর প্রণসত্তা- সর্বজনীন।শাশ্বত।

তলস্তয়ের বিশ্বখ্যাত যুদ্ধ ও শান্তি, আন্নাকারেনা ,পুনরুজ্জীবন উপন্যাসের মতো কসাক উপন্যাসে আছে মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি ও মানব চরিত্রের নিপূণ বর্ণনা। উপন্যাসটি ১৮৫২ সালে রাশার সেন্ট পিটার্সবুগর্ের সভ্রেমেন্নিক পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পাঠালে সম্পাদক রুশ কবি নেক্রাসভ উপন্যাসের সাহিত্যগুনে মুগ্ধ হয়ে লেখকের সাথে পরিচিত না হয়েই ছাপা শুরু করেন। এর চমৎকার পাশ্বচরিত্র হলো অসমসাহসী তরুন কসাক লুকাশকা,অহংকার দৃপ্ত সুন্দরী মারিয়ানা, ফুরতিবাজ ও জ্ঞানী পুরুষ শিকারী এরশ্কা।

গোর্কী আরো একটি মন্তব্য আসাধারণঃ তলস্তয় হলেন সমগ্র একটি জগৎ। এই মানুষটি যথার্থই সম্পাদন করেছেন এক বিপুল কর্ম- অতিবাহিত সমগ্র একটি যুগের ফলাফল তিনি নির্ণয় করেছেন, পরিচয় দিয়েছেন তাঁর অপূর্ব সত্যনিষ্ঠা, শক্তি ও সৌন্দর্যবোধের।

কসাক উপন্যাসে মানুষের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে, সাধারণ জনজীবনের সৌন্দর্য ও পবিত্রতা সম্পর্কে এবং উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ওলেনিন – সমাজের ওপরতলার কপটতা ও মিথ্যাচারের প্রত্যাখ্যান বিষআষয় আন্তরিক ভাবে তুলে এনেছেন।সমর সেনের অনুবাদে এন বি এ থেকে প্রকাশিত এ কৃতি কাজটি সম্পাদনা করেছেন অরুণ সোম।

……………..

২৪.০৭.২০১৫

মেয়র সাব এক্কানা চণ খাল পাড়রদি

মেয়র সাব এক্কানা চণ খাল পাড়রদি১.

সকালে ঘুমটা ভাঙলো বউয়ের চিৎকারে, সাপ…সাপ…। কোথায় উঠানে। ধূত্তোর- সারা রাত বিষ্টি পড়েছে সবার বাড়ি ঘরতো এখন ছেড়াবেড়া, সবায় বিপন্ন তাই আশ্রয় খুজছে। এভাবে চিৎকার করতে হয়? উঠে দেখলাম ধোরা সাপ,গেইট খুলে দিতে ও ওর রাস্তা মাপলো। বউকে বললাম আমাকে আর কোনো কিছুর জন্য ডাকবে না , আমি ঘুমাচ্ছি।কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গলো বিড়ালের ডাকে, কাল থেকে সে অস্থির ।বিষ্টিতে সে আশ্রয়হীন।বাচ্চারা কাল থেকে শুধু তাড়াচ্ছে,এদিক

গেলে ওবেটা ওদিকে যায়।ক দিনে কিছু খায়নি হয়তো ,কেমন করুণ সুরে

ডাকছে। মায়া হলো। ঘুম ভাঙ্গানোর রাগটা বউয়ের উপর যেভাবে ঝারতাম,বিড়ালের উপর পাড়লাম না। মায়া বলে কথা।

২.

আজ ছেলের বউ নিয়ে বড় আপা আসবে।গিন্নির তোড়জোড় সকাল থেকে।বাজারের ফর্দ শেষ হয় না। ঈদ ছুটি , এর পর রাত ভর বিষ্টি । পেছনের জানালা দিয়ে চাকতায় খালের পানি দেখলাম।সকাল থেকে ভাটা এখনও পানি রাস্তার সমান।বের হয়ে দেখি প্রায় দোকান বন্ধ। অগত্যা চকবাজার যাওয়া।ডিসি রোডে এক হাটু পানি। রিক্সাওয়ালা রাজি হলো ফিরে আসাসহ বাড়তি ভাড়াতে।হায়রে রাস্তা! রিক্সা এদিক থেকে ওদিক দেবে যায়। পুরো রাস্তায় দক্ষিণদিকে হেলে যাওয়া। রোডস এন্ড হাই ওয়ের কি কোনো অবজারভার নেই। রাস্তাগুলো এভাবে তৈরী হয় কিভাবে?টিকাদাররা কিভাবে যে এদেশের সর্বনাশ করছে! সমস্ত উন্নয়ের গণশত্রু এ শ্রেণি। সব জায়গায় কি গণ পাহারাদার ব্যবস্থা করা যায় না? যে এলাকায় উন্নয়ন হবে, কাজ শেষে ও এলাকার জনগনের থেকে পরামর্শ বক্স দিয়ে গণশুনানির পর, বিল ছাড় দেওয়া। উন্নয়নের নামে যা হচ্ছে – তা কতটুকু জণস্বার্থ রক্ষা হচ্ছে তা আজ বিবেচনার বিষয়।

৩.

বাজার না আগুন। 

পেপে- কেজি ৬০টাকা

করলা -কেজি ৮০টাকা

ঝিঙ্গা -কেজি ১০০টাকা

বরবটি -কেজি ৮০টাকা

লাউ-কেজি ৬০টাকা

কঁচা মরিচ ১২০টাকা

ধনেপাতা ২.৫০ গ্রাম ৬০ টাকা

গাজর কেজি ১২০ টাকা

শশা ৭০টাকা।

মুরগী ১৯০ টাকা। দোকানী মন্তব্য নিলে নিন , না নিলে না নেন। কথা বলার সময় নাই। ঈদের পরদিনের বাজারী বলে বাড়তি খেতাব পেলাম – দাদা বলে। বেটা আমার ধর্মটাও চেইন্জ করে নিলো ।পূঁজির সংসারে সবই কমন করে নিলো দোকানিরা। সবে মিলে ৫,৬টি দোকান খোলা।

৪.

ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমদি নিজাদ ছিলেন এয়ার ম্যানেজম্যান্টের ডক্টরেট। আমাদের গুলো রোড ম্যানেজম্যান্টের হলেও মন্দ হতো না।বিশ্ব থেকে আমরা এতো পিছিয়ে, ডিস এন্টেনা এভেলেভেল করে কি লাভ হলো? আমাদের সমাজপতিরা কিছুই কী শিখছে? চট্টগ্রামের উন্নয়ন উড়াল সড়কেই আটকে আছে। আর কিছু না হোক যা আছে তার তদারকি কী প্রয়োজন নেই? মেয়র সাহেব শুধু সংবর্ধনায় ব্যস্ত থাকলে চলবে ? কে কাকে বলবেন? সবায় মোসাহেবিতে আছে।কার যেন ছড়া পড়েছিলাম-

দেশ গেলো গোল্লায়

নেতারা কি ভাবছে?

আজ বলতে ইচ্ছে হয়-

বারিশার পানি পরের আসমান ফাডি

মেয়র সাব এক্কানা চণ খাল পাড়রদি

য়োতোর মতো পানি যার রাস্তার উর

গুয়োর পানি মুতোর পানি অক্কত্তোর

রাস্তাগুন চিলি চিলি গাউয়ে রইয়ে 

কোর ভাঙ্গি মাজা ধরের বেগ্গুনিত্তি।

কাজ গইরলে গরন কিছু তারাতারি

মা বাপরে গাইল ন উনাউন এন গরি।

লেখা ঃ চারিত্র ভাবনা

  সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকাগুলো প্রকাশিত হতে হতে এক একটি চারিত্র ধারণ করে। সম্পাদক যতই বলে দিক না কেন- এমন হবে এমন হবে…, হয় কিন্তু অন্যরকম।কারণ সাহিত্যপত্রিকা একক সম্পাদক কেন্দ্রীক নয়- এর সাথে জড়িয়ে থাকে বিভিন্ন মানসের বিভিন্ন রুচির লেখক , বিজ্ঞাপন দাতা এবং পৃষ্টপোষকের রুচির ভিন্নতা।তাই আধুনিক যে কোনো মাধ্যমই যৌথ শিল্প।
প্রকাশিত হতে হতে কালি ও কলম এর চারিত্র দাড়িয়ে গেছে একটু চিত্রকলা ঘেষা এবং উটতি মধ্যবিত্তের ড্রয়ংরুমের রুচি কেন্দ্রীক।বাংলা একাডেমীর উত্তরাধিকার হয়েগেছে বারোয়ারী চরিত্রের এবং একটু আতলামী ঘেষা। বইয়ের জগৎ হয়েগেছে- বুকরিভিউ। হারিয়ে গেছে আবহমান, একবিংশ, গান্ডীব,উষালোক, উলুখাগরা। মাঝে মাঝে উঁকি দেয় এগুলো। কেউ পায় কেউ পায় না।অন্যগুলো এখনো কোনো চারিত্র ধারণ করে ওঠেনি।

কবি ও শিল্পী শাহাবুদ্দীন নাগরী সম্পাদিত একটি সাহিত্যের কাগজ স্লোগানের লেখা ম্যাগটি ইতোমধ্যে চারটি সংখ্যা বের হয়েছে।সাম্প্রতিক সংখ্যা জুন২০১৫। এ সংখ্যায় সৃজনশীল লেখার চাইতে বই আলোচনাই প্রাধান্য পেয়েছে।তবে দুটো প্রবন্ধ,দুটো গল্প, একটি ভ্রমন, একগুচছ তারুণ্যের কবিতা এবং একক কবি ও কবিতা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে ষাটের আমরা তামাটে জাতি খ্যাত কবি নুরুল হূদা।

প্রসঙ্গ ছিলো সাহিত্যপত্রিকার চারিত্র নিয়ে।শুরু থেকে লেখা সম্পাদক গবেষণা প্রবন্ধের প্রতি তার পক্ষপাতের কথা জানালেও পাঠক তেমন লেখা এখনো পায়নি।তবে এ সংখ্যার সুচিবদ্ধ প্রবন্ধ ও বই আলোচনার প্রায় ক টি যথেষ্ট মান সম্পন্ন।

এ সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীন অধ্যাপক ড. আবুলকাসেম ফজলুল হ ও কথাশিল্পী রফিকুর রশিদ। বাংলাদেশের সংস্কৃতি সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে লেখা ড. কাসেমের প্রবন্ধটি পাঠকের ভাবনা জাগাবে।এটি সময় উপযোগী ভাবর উপস্থাপনা।তবে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সাম্প্রতিক চারিত্রনিয়ে তাঁর মন্তব্য সংযোজন যোগ্য।

অধিপতি শ্রেনীর লোকেরা বুদ্ধিজীবীরা উচ্চপদস্থ আমলা, এনজিওপতিরা ও ধনিক বনিকেরা সচেতন কথাবার্তায়, সেমিনারে সিম্পোজিয়ামে, আনুষ্ঠানিক আলোচনায়, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সময়ে আশার কথা বলে থাকেন। যেটা যান্ত্রিক ব্যাপার , সাধারণত তাতে আন্তরিকতার কিংবা আবেগ অনুভূতির সংযোগ থাকে না। সার্বিক বিবেচনা পরিহার করে খন্ড খন্ড,ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র, বিশেষ বিশেষ বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন। তাদের আলোচনার বিষয় ও পদ্ধতি ও পূর্বনির্ধারিত থাকে। চুড়ান্ত নির্ধারক শক্তির অবস্থান বাংলাদেশের ভেতরে নয় ওয়াশিংটনে , লন্ডনে, প্যারিসে।- কিন্ত এ দীর্ঘ মূল্যায়নে ড.কাসেম কেন ভারতের কথা বললেন না ? তা সত্যিই রহস্যময়।

তিনি আমাদের লোক- শিরোনামে রফিকুর রশিদের প্রবন্ধটি সাধারণ মানুষের প্রতি কবি গুরুর অনুভূতি ও অবস্থানকে তুলে ধরার চেষ্টা আছে।প্রবন্ধের উপান্তে প্রবন্ধকারের আবেগঘন উক্তি- পূর্ববঙ্গ তথা এই বাংলাদেশের আকাশ বাতাস,জল-হাওয়া বঝিবা তাকে করে তোলে সর্বমনবের কবি, ব্রত্যজনের কবি, এবং এ ভূভাগে দাঁড়িয়ে আমরা দাবি করতে পারি – তিনি আমাদের কবি। কিন্তু অনুজ্জ্বল রবীন্দ্রনাথের বঙ্গভঙ্গের পক্ষে অবস্থান কেন এর বিপরীতে প্রশ্নবিদ্ধ নয়? তা তিনি ভাবলেন না।

বই আলোচনা পর্বের দশটি আলোচনা বৈচিত্র্যময়।অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের প্রবন্ধ ওড়াউড়ির দিন, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনের গল্প ইজ্জত, ময়ুখচৌধুরীর কাব্য পলাতক পেণ্ডুলাম,কথাশিল্পী ফরিদুর রেজা সাগরের কথকতা মানুষের মুখ-৪ ,কবি ও আমলা কামাল চৌধুরীর উড়ে যাওয়া বাতাসে ভাষা , নন্দিত কথাশিল্পী মঈনুল আহসান সাবেরের উপন্যাস আবদুল জলিল যে কারনে মারা গেল,ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর সম্পাদনা জীবনানন্দ দাশের চিঠিপত্র, কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের রবীন্দ্রগবেষণা দক্ষিণ সূর্যোদয়, কবি মাহবুব আজীজের নৌকোটি যখন ভিড়বে, কথাকার জুয়েল মোস্তফিজের মেরাতুন্নেসা মনমহাজনের কথা নিয়ে আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে।

সায়ীদ স্যারের উপর তপন বাগচীর আলোচনাটি একাডেমীক।মেদহীন এবং চমৎকার। ইজ্জত নিয়ে মাসুদুল হকের আলোচনাটি প্রথম দিকে যতটা বিস্তৃত শেষ পর্যায়ে একটি সাধারণ মন্তব্য দিয়ে ইতি টানে।মূলতো আলোচনাটি অসম্পূর্ণ। আহমেদ বাসারের ময়ুখ চৌধুরীর কাব্য আলোচনা আলো ফেলেনি পষ্টভাবে। কবিতা আলোচনা ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিভংগি থেকে শুরু হওয়াতে রসবোধ চমকে উঠেছে পাঠকের। ময়ুখ চৌধুরীর রোমান্টকতা ও পরাবাস্তব বরাভয় উন্মোচনের চাইতে আলোচকের সুচিবিদ্ধ করার প্রবণতা ও কিছু শব্দ ব্যবহার আলোচনাকে পাঠ উপভোগ্য করেনি। কবির সম্পর্কে শেষ মন্তব্যটি শিল্পীত হয়নি।সম্পাদক ও স্টালিনের আলোচনাটি সুখপাঠ্য। ঔপন্যাসিক সাবেরের উপর আলোচনাটি অগভীর। আলোচক উপন্যাসের নামকরনের নান্দনিকতা ও উপস্থাপনার স্বাতন্ত্র উপলব্ধি করতে পারেন নি।চিঠিপত্র নিয়ে আলোচনা পাঠ বৈচিত্র এনেছেন সম্পাদক তবে আবদুল মান্নান সৈয়দের কাজটির সাথে তুলনামুলক আলোচনা হলে পাঠক উপকৃত হতো।রবীন্দ্রনাথের বহির বিস্তার নিয়ে রাজু আলাউদ্দিনের গবেষণা দক্ষিণে সূর্যোদয়। নওশাদ জামিলের আলোচনাও হৃদ্য । আমাদের ওকোম্পা মুগ্ধতার বিস্তার ঘটিয়েছেন লেখক ওআলোচক। কবি শঙ্খ ঘোষ ও শিল্প সুরসিক আলম খোরশেদের ওকম্পো নিয়ে কাজগুলো বাঙালি পাঠককে রুচিশীল করে তুলেছেন তাই এ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ রবীন্দ্র চর্চার এ বিস্তারে রুচিশীল পাঠকের গ্রহ্যতা পাবে।তরুণ কবি মাহবুব আজীজ ও জুয়েল মোস্তাফিজের কথকতা নিয়ে আলোচনা উপভোগ্য।

সাথে সাথে লেখার একটি চারিত্র চিহ্ণিত হয় ।সম্পাদক নেপথ্য থেকে আমাদের আলোচনা সাহিত্যের একটি ধারা তৈরীতে ভূমিকা রাখার চেষটা করছেন লেখার মাধ্যমে। আর তা নিরেট গবেষণার নিরঘন্ট তৈরীর মতো পোকা খাওয়ার জন্য নয়, তা যে সাধারণ পাঠক রুচির কাছাকাছি থাকে।

লেখার প্রথম সংখ্যাটিতে থেকে আমরা লক্ষ্য করছি ভ্রমন সাহিত্যের উপর পক্ষপাত। এবং কবিতার চমৎকার উপস্থাপনা। বাংলা কবিতা যেখানে দৈনিক পত্রিতার সাহিত্য সম্পাদকের দয়ার উপর টিকে আছে , সেখানে চার রঙা প্রচ্ছদ নিয়ে কবিতার বর্ণাঢ্য উপস্থিতি সত্যি কবিতার লেখক পাঠক এবং শত্রুদেরও মুগ্ধ করে। লেখার এ চারিত্র অটুট থাক অনন্ত কাল। কারণ কবিতা কবির স্বপ্নময় মূহূর্তের সৃষ্টি গদ্যময় যাপনের নয়। তাই স্বপ্নের মতো রঙ্গিন উপস্থাপনাই যথার্থ।তারুণ্যের প্রতি লেখার এ পক্ষপাক আর একটি চারিত্র লক্ষণ হয়ে থাকবে আমাদের সাহিত্যের কাগজগুলোতে ।

লেখা শুরু থেকেই ঐতিহ্য সচেতন। আমাদের ইতিহাসের কৃতিমানদের উপস্থানায় তার কার্পন্য নেই। রবীন্দ্র নজরুল -জীবনানন্দ- ফররুখ -সুধীদ্র আলোচনার পাদপ্রদীপে এসেছে, তা যেন আরো বিস্তৃত হয়। সমকালের সাথে ঐতিহ্যের মিথস্কিয়া না হলে মহৎ সাহিত্য রচনা দূরহ হয়।

বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের একটি নবতর ধারা শুরু করছিলেন সব্যসাচী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দ- পত্রপ্রবন্ধ। সরাসরি চিঠিপত্র কলাম নয়, পত্রপ্রবন্ধের এ ধারাকে পরিকল্পিত উপস্থাপনের উদ্যোগ নিক লেখা। প্রতিটি সংখ্যায় একজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের উপস্থাপনায় হোক এ প্রয়াশ| দূর মূল্যের বাজারে মূল্য মাত্র ঃ ৫০ টাকা।শুভ হোক লেখার আগামীর পথ চলা।জিয়ো।

গালিবের গজল থেকে

বাংলাদেশে মহাকবি মীর্জা আসাদুল্লাহ খা গালিব কে নিয়ে প্রথম একান্তভাবে কাজ করেন কবি ও চিন্তুক মনির উদ্দিন ইউসুফ।যিনি বাঙলা ভাষায় ফারসী থেকে ইরানীমহাকাব্য শাহনামার সফল অনুবাদ উপহার দিয়ে ছিলেন।কবি ও চিন্তুক হিসেবে তারঁ ধী শক্তি সত্যিই সচেতন পাঠককে বিস্মিত করে।বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র মূল্যায়নে তারঁ একটি অনন্য মাত্রা আজ ও মূল্যায়ন হয়নি।এছাড়া তাকে মূল্যায়নের যোগ্য ব্যাক্তিও খুব স্বল্প।
কবি ও চিন্তুক মনির উদ্দিন ইউসুফ ১৯৬০ সালের দিকে গালিব চর্চা শুরু করেন।৯০ দশকে পশ্চিমবঙ্গের লেখিকা যূথিকা তলাপাত্র আতিশ- এ – গালিব লিখে আধুনিক পাঠকের দৃষ্টি ফেরান আঠারো শতকের এ কবির দিকে।যা এক সাথে ছিলো জীবনী ও কবিতা পাঠ।সত্যি যা ছিলো অনন্য।
২০০৪ সালে গালিবের গজল শিরোনামে ড. মফিজ চৌধুরীর একটি অনুবাদ প্রকাশ হয় মোহাম্মদ সা.দাত আলীর সম্পাদনায়।যা ছিলো প্রায় ৪০ বছর আগে করা একটি অনুবাদ কৃতির্ – যা সম্পাদকদের আলস্যের বদন্যতায় প্রকাশ পেয়েছে অনবাদকের মৃতু্যর দশ বছর পর।ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পাঠক সমাজ আরও একটি গালিবের অনুবাদ উপহার পায় আশি দশকের কবি ও কথাশিল্পী বুলবুল সরওয়ারের কাছ থেকে- মীর্জা গালিবের গজল শিরোনামে।চট্রগ্রামের নন্দন প্রকাশনের এ প্রকাশনা সুধী সমাজের ঈষর্ার দৃষ্টি কেড়েছে।ইংরেজি থেকে অনুবাদ হলেও অনুবাদক গালিব ঘরাণার সাথে পরিচিত বলে এবং ভাষা বৈশিষ্ট্যে এগানা বলে অনুবাদগুলো হয়ে ওঠেছে উপভোগ্য।
মীর্জা গালিবের শায়েরীর সাথে যাদের উঠাবসা নেই , তারা বুলবুলের অনুবাদের রস গ্রহনে ব্যর্থ হবেন না।ইতোমধ্যে বাঙালি পাঠক শুধু নয় লেখকরাও আচমিত হয়েছেন গালিবের শায়েরীতে। এর পেছনে নেপথ্য ভূমিকা রেখেছে নাসির উদ্দিন শাহ পরিচালিত ধারাবাহিক এপিসোড মীর্জা গালিব ও জগজিৎ সিং এর অনন্য গজল গাওয়া।আকুল প্লাবি প্রেমে ছুঁয়েছে নব্বই দশকের তারুণ্যই নয় পঞ্চাশের কবি সৈয়দ লিখেন গালিবের জীবন ও কৃতর্ি নিয়ে নব আঙগিকে নিজস্ব কবিতা।ষাটের কথাশিল্পী সেনিনা হোসেন লিখেন যমুনা নদীর মোশাহিদা । দুটিই আলাদা ভাবে মূল্যায়নের দাবী রাখে।পশ্চিমবঙগে গালিব কে নিয়ে আরও তিনটি গ্রন্থ আলোর মুখ দেখেছে। পুষ্পিত মুখপাধ্যায়ের অনুবাদে প্রকাশ পেয়েছে গালিবের পত্রাবলী,গালিবের নিজের লেখা আত্মজীবনী দস্তুব, ও গালিবকে নিয়ে লেখা প্রথম স্মৃতিচারণ গ্রন্থ মৌলনা আলতাফ হোসেন হালির লেখা গালিবের স্মৃতি।যা সত্যি গালিব পাঠকের জন্য মহার্ঘ্য।গালিবের গজলের পাশাপাশি তার জীবনও গজলময়। পাঠক তুমুল ভাবে আলোড়িত হবেন এ তিনটি বই পাঠে। সাথে বুলবুল সরওয়ারের অনুবাদগুলো পড়তে ভুলবেন না।

2015/04/img_7598-0.jpg
গালিবের গজল থেকে // মাঈনউদ্দিন জাহেদ

গজল অর্থাৎ প্রেমালাপ- যারবিচিত্র চিন্তার প্রকাশ- পরিধি বিশাল , বিরহ থেকে মিলন আকাঙ্ক- হতাশা-ব্যথা-বেদনা-স্বাদ-আহ্লাদ-ঈর্ষা-যন্ত্রনা-ক্রটি,অভিমান-আর্তি। গজল শুরু হয় যে দু‘টো চরণ দিয়ে তাকে বলা হয় মাতলা ।প্রথম পংক্তিরশেষ শব্দটি আগের শব্দ দ্বিতীয় পংক্তির শেষ শব্দটির আগের একটি শব্দের সঙ্গেঁধ্বনিগত মিল থাকতে হয়। এ মিলকে বলা হয় ‘কাফিয়া’। গজলের পরবর্তী প্রতিটি কবিতার দ্বিতীয় পংক্তিরশেষ শব্দটি‘ মাতলা’র দ্বিতীয় পংক্তির শেষ শব্দটির স্থানে বার বার ছন্দিত হবে, আর এর নাম ‘রাফিফ’। গজলের দু’টো মিল। একটি ধ্বনিগত-কাফিয়া, দ্বিতীয়টি রাদিফ শব্দগতরা পুনরাবৃত্তি। গজলের শেষ কবিতা কে বলে মাকতা। বাংলা কবিতায় ঈশ্বের গুপ্তের কবিতাবলীতে এ মিল পাওয়া যায়। গজলের নায়িকা কখনওকিশোরী নয় বরং হয় তারা যুবতী – যে মনোরঞ্জন প্রাঞ্জ। তাকে বলা হয় ‘তাওয়াযেফ’- যাকে উদ্দেশ্য করে গজল রচনা হতো তারা সাধারণত পান সভায় গজলের সুরেনাচতেন । একনিষ্ঠ না হলেও যারা তন্ময় মূহুতের একান্ত জন। গজলের গাওয়ার একটিনির্দিষ্ট ঢং আছে। যাতে অভিজাত বাংলার তরুনী কিংবা অনিন্দ্য সুন্দরী নৃত্যপটিরসীরা। তাদের ধনাঢ্য বণিক বা আমীর-ওমরাদের মনোরঞ্চনের জন্য নিজেদের রুপকে তুলেধরতে। যা রক্ষনশীল মুসলিম সমাজে শালীনতার আড়ালে আর একটি বিকৃতি । বিশিষ্ট চিন্তকআবু সায়ীদ আইয়ুবের মূল্যায়ন হচ্ছে। এই শালীনতা বোধ, যার আওয়াতায় সমযৌন প্রেমউনবিংশ শতাব্দীর উর্দু কাব্যে সমাদৃত হলো।এবং নারীর প্রতি প্রতি পুরুষের ভালোবাসা বহিস্কৃত হলো বা প্রচ্ছন্ন রইলো আমাদের আজকের রুচিতে যতোই অদ্ভুত ঠেকুক,তাকে অস্বীকার করার জো নেই । তেমনি ভাবে বাঙালি মুসলিম বিত্তশালী সমাজে ঢুকেগিয়েছিল ঊনিশ শতকে ‘ঘেটুপুত্র’ রাখার প্রবণতা আর বাঙালি হিন্দু সমাজে কালি পুজাউপলক্ষে ‘নাটটো পোয়া’ নাচনো প্রথা । সামাজিক বিবর্তনের মধ্যদিয়ে অনেক বিকৃতি এখন লোপ পেয়েছেঠিকই ,তবে তাদের ক্ষতের চিহৃ বয়ে চলছে। আমাদের ইতিহাস গজল নিয়ে একটি বিমোহিত বোধ আছে রুচিশীল শিক্ষিত সমাজে । এটা একধরনের নষ্টালজিয়া । আমাদের ভেতরের অপ্রাপ্তিগুলো কে আমরা ভাব-গানের মাঝে খুজিফিরি।উর্দ্দু সাহিত্যের অসাধারণ গজলশিল্পী মীর্জা গালিব। তার গজল থেকে ক’টি ভাবঅনুবাদ-

Pগজল -১
যে আমি বার বার খুলি দরজা-জানালা
সেকি এলো সেকি এলো
বধুর চিঠি নিয়ে এলো নাকি বায়ূ-
বিশাদে আকাশ এলোমেলো
সে এলে আমার ঘরে বসে থাকি অবিরত
খোদার কি কুদরত!
এক বার দেখি ওকে, আবার দেখি ঘর
শূন্য ঘরে একি স্বপ্নীল জগৎ?
হৃদয়ের ক্ষত হৃদয়েই থাক
দেখবে কেন অন্য লোক?
দেহ-সৌষ্টব্যে পড়বে নজর-
দেখে যদি হিংসুটে লোক!
কী আর দেখবে তার -যার মাথায়
শোভা পায় মানিক্য মুকুট
বন্ধুর মাথায় মুক্তো জ্বলে আমি জ্বলি ঈর্ষায়
তার ভাগ্য নিয়ে করি আমি মাথা কুট্-কুটু্

গজল -২
নাইবা যদি কাঁদতাম আমি
এঘর হোতা বিরনে ভূমি ;
সাগর না হয় ,হতো মহাসাগর
কিংবা হতো মরুভূমি ।
হৃদয়ের কথা কি আর বলবো
দিলতো নয় কাফের দিল
কমিনা নাহলে এ দিল কি আর
এমন পেরেশান হয়ে যেতো ।
জীবনের এই তপস্যা শেষে-
একবারও তোমার দেখা না পেলে ;
তার চেয়ে তো ঢের ভালো হতো জীবন
তোমার ঘরের দারওয়ান হলে ।

গজল-৩
চলে বলে চাই এমন কোন খানে –
যেখানে নেই কেউ;
সমব্যথী নেই সমভাষী নেই
চলো চলে যাই; সেই খানে।
চলো বাধিঁ ঘর দরোজা জানালাহীন ,
প্রাচীরও ছাদহীন ;
নেই কোন প্রতিবেশী ,
নেই বলবার কেউ
আমি তুমি বন্ধনহীন ,,.
ভুগি যদি রোগ-শোকে? দেখবার কেউ নেই
মৃত্যু যদি বা আসে, কাদঁবার কেউ নেই ।

গজল- ৪
এসো তুমি প্রাণ যায় যায়
এসো তুমি! অপেক্ষার ধর্য্য নেই আর ।
জীবনশেষে দেহেম্বত্ত পাইও যদি
জীবনশেষে জ্বালার সেকী হয় প্রতিদান ?
তোমার মেহফিলে যদি কেঁদে ফেলি ?
ভয়ে তাই মরে যাই;
প্রাণ ভরে কাঁদার মতো পাইনা একটু ঠাঁই !
হায় ….হায় …..হায় ।
আমার হৃদয়ের কোথায় আছে হিংসা -ক্রোধ
প্রেমের ভস্মস্তুপে থাকে না কোনো বিরোধ;
আমাকে হত্যার যদি করো শপথ !
ভেঙ্গে না প্রতিঞ্জা যেন আবার ;
শপথ করেছে গালিব মাতাল হবে না,
নয়তো হবে না বন্ধুর প্রতিঞ্জা পালন ।

গজল -৫
আয়নাতে দেখে চুপ কেন? প্রেমে লাজ ?
হৃদয় দেবে না বলে গর্ব ছিলো; করো সাজ;
পত্রবাহকের প্রাণ নিয়োনা তোমার হাতে ;
নেই তার অপরাধ,তার তাতে
যা কিছু হয়েছে আমার অপরাধ সকলি আমার ।

And miles to go before I sleep

১.
রবার্ট ফ্রস্ট ১৮৭৪ সালের ২৬ মার্চ সানফ্রানসিসকোর ক্যালিফোরনির্য়ায় জন্মগ্রহন করেন।একটি কর্মময় যাপিত জীবন শেষে ১৯৬৩সালের ২৯ জানুয়ারী বোস্টনে পরলোক গমন করেন।
২.
১৮৯৪ সালে তারঁ বয়স যখন কুড়ি বছর , তখন তারঁ একটি কবিতা মাই বাটারফ্লাই একটি জাতিয়মানের সাহিত্য পত্রিকা পনেরো ডলার দিয়ে কিনে নেয়।ব্যক্তিগত ভাবে তিনি ৬টি কবিতা দিয়ে তাঁর টোয়াইলাইট কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।সংখ্যা ২টি ।একটি নিজের জন্য অন্যটি তাঁর সহপাঠিনী- বাগদত্তা এলিনর হোয়াইটের জন্য। ঝোঁকের মাথায় পোল্টি ফার্মের ব্যাবসা শুরু করলেন।
৩.
১৯১৩ সালে ইংল্যান্ড তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আ বয়েজ উইল প্রকাশিত হয়। ১৯১৪ সালে নর্থ অব বোস্টন প্রকাশের সাথে সাথে তাঁর খ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১৫ সালে ফ্রস্ট যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। মাউনটেন ইন্টারভ্যাল(১৯১৬), নিউ হ্যাম্পশায়ার(১৯২৩), ব্রুক(১৯২৮), আ ফাদর্ার রেঞ্জ(১৯৩৬) কাব্যগুলোতে তিনি বিভিন্ন রূপে-ভঙ্গিতে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।পরবর্তীতে প্রকাশ পেয়েছে আ উইটনেস ট্রি(১৯৪২) ,আ মাস্ক অব মাসর্ি(১৯৪৭),স্টেপল বু(১৯৪৭), মস্ক অব রিজন(১৯৫৪)।বাইশটি ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে।১৯৫৭ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোডর্ ও কেমবি্রজ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে অনারারি ডিগ্রিতে সম্মানিত করেন।
৪.
বাংলাদেশে রবাটর্ ফ্রস্টের কবিতার অনুবাদ উপহার দেন পঞ্চাশের অন্যতম কবি শামসুর রাহমান।প্রায় ৬৫টি কবিতার উপহার দেন রবাটর্ ফ্রস্টের নির্বাচিত কবিতা(১৯৬৮)
৫.
রবাটর্ ফ্রস্টের কবিতায় নাটকীয়তা ও গীতিময়তা পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে চলে।
এক সময় আমাদের নাটকগুলোতে নায়কের মুখে একটি সংলাপ থাকতোই-
The woods are lovely, dark and deep,
But I have promises to keep,
And miles to go before I sleep,
And miles to go before I sleep.
রবাটর্ের কবিতায় জীবনের ইতিবাচকতা পস্ট হয়ে ওঠে। জীবনকে স্বীকার করে নেওয়া, তার ক্লেদ, নির্মমতা, ও অসম্পূর্ণতা সত্ত্বেও তাকে গ্রহণ ও উপলব্ধি করার কবিতাই লিখে গেছেন তিনি।
আজকের দ্বন্দ্বময় , পরস্পর বিরোধী ভাবসংঘাতের পরিবেশে – মহৎ আত্মত্যাগী বীর দূর্লভ। কিন্তু ক্ষুদ্রতায় , ঔদাসিন্যে, নিষ্কৃয়তায় তাই তলিয়ে যাওয়া নয়। তাই লিখেছেন-
The question that he frames in the all but words
Is what to make of a diminished thing.

সংকুচিত পৃথিবী থেকে আমরা কতটুকু পেতে পারি ,নিতে পারি ফ্রস্টের কবিতার মৌলিক

2015/04/img_7610.jpg

2015/04/img_7613.png